স্টাফ রিপোর্টার:
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত আওলাদ নামে এক চাঁদাবাজের দাপটে অতিষ্ঠ। এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজির জায়গা করে নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পর আওলাদ রাতারাতি বিএনপি নেতা হয়ে গেলেন অথচ তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলেন। সুযোগ বুঝে তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে আবারও চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।
এরপর থেকে তিনি ব্যবসায়ীদের উপর চাঁদাবাজি চালাতে থাকেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবি এবং এলাকায় দাপট দেখানো হচ্ছে।
একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আওলাদ যেভাবে রাজনৈতিক পরিচয় ভোগ করে চাঁদা আদায় করতেন, তা আর সহ্য করা যায় না। তার চাঁদাবাজির কারণে যাত্রাবাড়ীর সাধারণ ব্যবসায়ীরা দারুণ অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন।
গতকাল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তার চাঁদাবাজি সহ্য করতে না পেরে তাকে আটক করেন। পরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা একযোগে তার ওপর কিল ঘুষি প্রয়োগ করে তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তারা দাবি করছেন, রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, “আমরা আর এমন চাঁদাবাজি সহ্য করতে পারব না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে।“
এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও মন্তব্য করছেন। তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যের উপর দাপট দেখায়, তা সমাজে অরাজকতা সৃষ্টি করে।
যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের এই ঘটনার প্রেক্ষাপট স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কত দ্রুত এই চাঁদাবাজিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে।