ঢাকা রিপোর্টার:
যাত্রাবাড়ী এলাকার মৎস্য আড়তকেন্দ্রিক অবৈধ অর্থনীতি, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবের এক আলোচিত নাম বোরহানউদ্দিন বাবু। আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হলেও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছর ধরে ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ীর বিভিন্ন স্থানে বোরহানউদ্দিন বাবুর নামে ও বেনামে রয়েছে অন্তত ১৫ থেকে ২৫টি বাড়ি, প্লট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা। যাত্রাবাড়ী মৎস্য আড়তের ভেতরে অবস্থিত ‘আল্লাহর দান’ ও ‘জনতা মৎস্য আড়ত’–এর মালিকানাও তার নিয়ন্ত্রণে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় সম্পদের পাহাড়
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে অবৈধ ক্ষমতা ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বোরহানউদ্দিন বাবু অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান। এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগের দোসর মনু ও মুন্নার ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত বাবু প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশকে ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরেই নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, মৎস্য আড়তের আড়ালে চাঁদাবাজি, কমিশন বাণিজ্য এবং জোরপূর্বক দখলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে হুমকি, মামলা কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
“জানা যায়, বোরহানউদ্দিন বাবু তার রাজত্ব চালানোর জন্য আপন ভাগনে, আওয়ামী লীগের দোসর আল আমীনকে ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে আল আমীন কারাগারে থাকলেও, বোরহানউদ্দিন এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে ।”
ক্ষমতার রং বদলালেও অবস্থান অটুট
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও বোরহানউদ্দিন বাবুর প্রভাব কমেনি। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে তিনি বিএনপির কিছু নেতার সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। এমনকি কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের নেতাকে টাকার বিনিময়ে ‘কিনে নেওয়া হয়েছে’ বলে এলাকায় প্রকাশ্যে বলে বেড়ান তিনি।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—
“তাহলে কি টাকা থাকলেই সব ম্যানেজ করা যায়?”
সাধারণ মানুষের ক্ষোভ
এলাকাবাসীর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে একই ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় বদলে বদলে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ছাত্র হত্যা মামলার আসামি হয়েও প্রকাশ্যে চলাফেরা, ব্যবসা পরিচালনা এবং প্রভাব বিস্তার করায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, যদি দ্রুত আইনের শাসন নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে সমাজে এমন একটি বার্তা যাবে যে—
“টাকা কামাতে পারলেই সব করা যায়, টাকা দিলেই সবকিছু ম্যানেজ হয়ে যায়।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এলাকাবাসী অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।