কে হবেন আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন-এর রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা—কে হচ্ছেন পরবর্তী মেয়র। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা মেয়র পদে আগ্রহী বলে দলীয় ও নগর রাজনীতিতে আলোচনা তুঙ্গে।

জাতীয় নির্বাচনের উত্তাপ কমলেও নগর রাজনীতিতে তৎপরতা থেমে নেই। সম্ভাব্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। সিটি কর্পোরেশনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল—সিদ্ধিরগঞ্জ, সদর ও বন্দর এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় নেতারাও নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নিয়মিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপি থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন চাইতে পারেন মহানগর বিএনপির নেতা মাসুদুজ্জামান মাসুদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীব, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ এবং বিএনপি নেতা ও প্রাইম গ্রুপের মালিক আবু জাফর আহম্মেদ বাবুল। তারা সবাই সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও মাঠে নামতে পারেন বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতির খবর শোনা যাচ্ছে। আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমেদ এবং মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল জব্বার। পাশাপাশি জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনায় আছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অল্প ভোটে পরাজিত খেলাফত মজলিসের নেতা এবিএম সিরাজুল মামুন।

এছাড়া মেয়র পদে প্রার্থী হতে পারেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহ। আলোচনায় আছেন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সম্মুখ সারির সংগঠক ফারহানা মানিক মুনা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং একটিতে এনসিপি জয় পায়। শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, এবারের মেয়র নির্বাচন হতে যাচ্ছে জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। যে প্রার্থীরা সংগঠনকে শক্তিশালী রাখতে পারবেন, নিয়মিত জনসংযোগ বজায় রাখবেন এবং সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দৃশ্যমান থাকবেন—তাদের মধ্য থেকেই নির্ধারিত হবে নারায়ণগঞ্জের পরবর্তী মেয়র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *