মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। দিবসটি উপলক্ষে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিটি কর্পোরেশনের জনবান্ধব প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
একুশের প্রথম প্রহরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে তারা ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও এ শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, “ভাষার জন্য যারা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ বাঙালি জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাদের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। ভাষা শহীদদের এই অবদান কখনো ভোলার নয়—তাদের জন্য আজ আমরা বাঙালি হিসেবে গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, “মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং এর সঠিক চর্চা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে এবং শহীদদের আদর্শ হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। তাহলেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।
“একুশ মানেই আত্মত্যাগের মহিমা। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তার অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই মাতৃভাষাকে আমরা প্রযুক্তি, শিক্ষা ও প্রশাসনের সব ক্ষেত্রে আরও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিশ্বের সব মাতৃভাষার প্রতি সম্মান জানানোই এই দিনের মূল চেতনা।”
দিবসটি উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন।
জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এ আয়োজন ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।