মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নবনিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য আয়োজিত ৫ (পাঁচ) দিনব্যাপী অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দায়িত্বশীল, দক্ষ ও সেবামুখী মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। তিনি তাঁর বক্তব্যে নবনিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “একটি নগরকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য করে তুলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দক্ষ, সৎ ও জনবান্ধব প্রশাসন। আপনারা জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতীক। দায়িত্ব পালনে সততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতা বজায় রাখতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করতে হলে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে এবং দলগতভাবে কাজ করতে হবে। সময়নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নই হবে আগামী দিনের অঙ্গীকার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলম। তিনি বলেন, “প্রশিক্ষণ কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আত্মউন্নয়ন ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এর সার্থকতা প্রমাণিত হবে।”
এসময় অন্যান্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আজগর হোসেন, নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম এবং মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিয়া ইসলাম। তাঁরা প্রশিক্ষণার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনে সাফল্য কামনা করেন।
পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্যসেবা, নাগরিক সেবা প্রদান পদ্ধতি, আচরণবিধি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানটি ছিল নতুনদের জন্য এক অনুপ্রেরণার মঞ্চ—যেখানে তারা শপথ নেন, জনগণের কল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও দক্ষ, সুশাসনভিত্তিক ও নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।