মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ফতুল্লা। বিশাল জনসংখ্যা ও শিল্পাঞ্চল অধ্যুষিত এই এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাও সমান কঠিন। তবে এই কঠিন কাজটিই অত্যন্ত দক্ষতা ও মানবিকতার সাথে করে যাচ্ছেন ফতুল্লা মডেল থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল মান্নান। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ফতুল্লা থানার পুলিশিং কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নতুন অধ্যায়
ওসি আব্দুল মান্নান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’—এই স্লোগানকে বাস্তবে রূপদান করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। থানায় আসা সেবাগ্রহীতারা এখন আর আগের মতো হয়রানির শিকার হন না। ডিউটি অফিসারের কক্ষ থেকে শুরু করে ওসির নিজস্ব দফতর পর্যন্ত এখন সাধারণ মানুষের জন্য অবারিত।
সেবা নিতে আসা মধ্যবয়সী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আগে থানায় ঢুকতে ভয় পেতাম। কিন্তু এখন ওসি সাহেবের কাছে সরাসরি সমস্যার কথা বলা যায়। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ধরে আমাদের কথা শোনেন এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার আচরণে আমরা মুগ্ধ।”
দ্রুত অভিযোগ নিষ্পত্তি ও কার্যকর পদক্ষেপ
সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা সমাধানে ওসি আব্দুল মান্নানের দ্রুত হস্তক্ষেপ এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু করে পারিবারিক সমস্যা কিংবা ছোটখাটো অপরাধ—সবক্ষেত্রেই তিনি নিরপেক্ষ ও ন্যায়নিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছেন। ফতুল্লা থানার ডায়েরি রেকর্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গত কয়েক মাসে অভিযোগ নিষ্পত্তির হার আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে।
মাদক ও অপরাধ দমনে আপসহীন
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন ওসি আব্দুল মান্নান। তার নেতৃত্বে ফতুল্লার বিভিন্ন স্পটে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কিশোর গ্যাং কালচার রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায় বিট পুলিশিং সভা ও মতবিনিময় সভা করছেন।
সেবামুখী প্রতিষ্ঠানের পথে ফতুল্লা থানা
ওসি আব্দুল মান্নানের অন্যতম লক্ষ্য হলো ফতুল্লা থানাকে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। তিনি মনে করেন, পুলিশের কাজ কেবল অপরাধী ধরা নয়, বরং জনগণের বন্ধু হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো। থানায় আসা মানুষের বসার সুব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা এবং অভিযোগ শোনার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার মাধ্যমে তিনি ফতুল্লা থানাকে একটি আধুনিক ও আদর্শ থানায় পরিণত করার চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, একজন চৌকস ও মানবিক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ফতুল্লার অপরাধ চিত্র বদলে যেতে শুরু করেছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ফতুল্লায় শান্তি-শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় হবে এবং মানুষের মধ্যে পুলিশভীতি দূর হবে।
দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব ভূমিকার মাধ্যমে ওসি মোঃ আব্দুল মান্নান প্রমাণ করেছেন যে, সদিচ্ছা থাকলে পুলিশ বিভাগকেও সাধারণ মানুষের আস্থার শেষ ঠিকানায় পরিণত করা সম্ভব। তার এই সেবামূলক মানসিকতা ফতুল্লাবাসীর হৃদয়ে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছে।