এ আর সুমন:
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর হাইওয়েতে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে অবৈধ দোকান বসানো এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়রা জানান, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসানো এই দোকানগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে দায়ী করে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে মিলিত হয়ে এই সিন্ডিকেট গঠন করেছেন। তারা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে হকারদের দোকান বসানোর অনুমতি দেন এবং প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করেন। স্থানীয়দের মতে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মূলত হকার নেতা বা দালাল চক্র কার্যক্রম পরিচালনা করে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, “হকার নেতা বা দালালরা জায়গা ভাগ করে দেয় এবং দোকান বসানোর অনুমতি দেয়। প্রতিটি দোকান প্রতি দৈনিক ৩০০–৫০০ টাকা বা তারও বেশি চাঁদা আদায় করা হয়। প্রশাসন মাঝে মাঝে উচ্ছেদ অভিযান চালালেও স্থায়ী সমাধান হয় না। কেননা, অভিযান শেষে নজরদারি না থাকায় আবারও নতুন করে দোকান বসে যায় এবং সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে।”
প্রশাসনিক দিক থেকে বিষয়টি বেশ জটিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন। যদিও এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ, তবুও স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনিক দুর্বলতা বা অনিয়ম এই পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দখল হওয়া রাস্তা ও ফুটপাতের কারণে যানজট তৈরি হয়। বিমানবন্দর হাইওয়ে সাধারণত বড় যানবাহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ হলেও অবৈধ দোকান ও হকারদের কারণে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। পায়ে হেঁটে চলাচলকারীদের জন্যও এটি মারাত্মক অসুবিধা তৈরি করছে। স্থানীয়রা জানান, বিশেষ করে ভোর–সকাল ও সন্ধ্যার সময়ে এই এলাকা ব্যবহারকারীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন আমাদের দোকান চলার পথে হকারদের কারণে আমাদের পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। কখনো কখনো যানজট এতটাই বেড়ে যায় যে বাস বা ট্রাকও স্লো হয়ে যায়। আমরা চাই প্রশাসন স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিক।”
অপর একজন হকার জানান, “আমরা প্রশাসনের সঙ্গে কোনো বৈধ অনুমতি পাইনি। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আমরা জায়গা পাই এবং প্রতিদিন চাঁদা দেই। আমাদের কাছে এই ব্যবস্থা ছাড়া অন্য বিকল্প নেই।” স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন এই সিন্ডিকেট ভেঙে ফুটপাত ও সড়ক পুনরায় সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর জানান, “আমরা চেষ্টা করি সমস্যা সমাধানের, কিন্তু সিন্ডিকেট এতটাই সক্রিয় যে অভিযান করলেও তারা পুনরায় দোকান বসায়। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, এই এলাকা ফুটপাত ও সড়ক ব্যবহারের জন্য সাধারণ মানুষের জন্য মুক্ত করা।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দর হাইওয়ে এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের বেশ কিছু অংশ দখল করা হয়েছে। দোকানগুলো প্রায় ঘর সাজানো আকারে বসানো হয়েছে এবং প্রতিটি দোকান পরিচালনায় হকার নেতা বা দালালদের হাত দেখা যায়। অস্থায়ী উচ্ছেদ অভিযান হলেও স্থানটি দ্রুত আবার দখল হয়ে যায়।
যাত্রী ও পথচারীরা এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে স্থায়ী সমাধান নিতে হবে। বিশেষ করে বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যেখানে যাত্রীরা নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে চলাচল করতে আসে, সেখানে ফুটপাত ও রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা উচিত।
স্থানীয় সূত্রের মতে, প্রশাসন সচেতন হলেও সীমিত সংখ্যক উচ্ছেদ অভিযান ও তৎক্ষণাৎ নজরদারি না থাকার কারণে এই সমস্যার সমাধান হতে পারছে না। তারা আশঙ্কা করছেন, যদি স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই এলাকা আরও ভয়াবহ চাঁদাবাজি ও যানজটের কবলে পড়বে।
সার্বিকভাবে, বিমানবন্দর হাইওয়েতে ফুটপাত ও সড়ক দখল এবং চাঁদাবাজি একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সিন্ডিকেট, হকার ও দালালদের কারণে প্রশাসন কার্যক্রমকে স্থায়ীভাবে কার্যকর করতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা একই সাথে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
প্রশাসনকে স্থায়ী নজরদারি, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং রাস্তা ও ফুটপাত পুনরায় সাধারণ মানুষের জন্য মুক্ত করার জন্য তৎপর হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে এবং বিমানবন্দর হাইওয়ে সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য হবে।