মোহাম্মদ হোসেন সুমন:
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র ও পর্যটনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিভিন্ন দোকানের জন্য কার্ড দেওয়ার নামে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চায়ের দোকান, খাবারের দোকান, ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান, চেয়ার-ছাতা ভাড়া, টিকটক ভিডিও স্পটসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার জন্য কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের অর্থ বাণিজ্য হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি দোকানের কার্ড দিতে ১ লাখ থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, এনজিও সেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখার কিছু ব্যক্তি মিলে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই কার্ড বিতরণে অনিয়ম করেছেন। পাশাপাশি কিছু প্রভাবশালী মহলও এতে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আরও জানা যায়, কক্সবাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনকেও এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বিচ এলাকায় বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের যাচাই-বাছাই করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দোকান বসানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও কক্সবাজারের ভাবমূর্তি রক্ষায় সমুদ্রসৈকত এলাকায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবৈধ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।