আব্দুর রশিদ:
সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালকরা।
রাত ২টায় সিরিয়াল দিয়ে পাচ্ছে না তেল, বাড়ি থেকে বের হয়ে দিনভর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ঘুরেও পেট্রোল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করতে। কেউ কেউ ভ্যান বা ইজিবাইকে করে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গতকালও ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রোল কিনতে পারলেও আজ সেই দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে প্রতিদিনই পেট্রোল ও অকটেনের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।
কিছু ফিলিং স্টেশনে ‘তেল নেই’ বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
এক ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক বলেন,
“রাত ২টায় বের হয়ে এখনও পেট্রোল পাইনি। গতকাল ২০০ টাকা দিয়ে কিনেছি, আজ সেটাও পাওয়া যাচ্ছে না। এখন বাধ্য হয়ে ভ্যান গাড়িতে চলাচল করছি। মানুষের কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।”
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ ও মোটরসাইকেল চালকরা। যারা প্রতিদিন অফিস, ব্যবসা বা অন্যান্য কাজে মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন মারাত্মক সংকটে। তেল না পাওয়ায় অনেকেই বাইক চালানো বন্ধ করে দিয়েছেন, ফলে সময়মতো কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে গোপনে তেল বিক্রি করছে। পাম্পে সরবরাহ না থাকলেও বাইরে বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে তেলের সংকটের কারণে ভ্যান, ইজিবাইক ও গণপরিবহনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ছোট ব্যবসায়ীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। অনেককে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সচেতন মহল দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের আশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই সংকট থেকে মুক্তি মিলবে।