মোঃ মেজবাউল হক টিপু:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দীর্ঘ ২১ বছরের ‘জঞ্জাল’ থেকে মুক্তি চায় স্থানীয় এলাকাবাসী। একক আধিপত্য বিস্তার, গ্রাম্য সালিশ অমান্য করা, বাড়ির বাসিন্দাদের ওপর অন্যায় অত্যাচার, হুমকি-ধামকি প্রদান, এবং মুখ খুললে হামলা-মামলার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কাজী শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এছাড়া বাড়ির উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে রামগঞ্জ উপজেলার ১নং কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব বিঘা নকু পালের বাড়িতে। এ ঘটনায় রামগঞ্জ উপজেলা ও থানা পুলিশ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী পূর্ব বিঘা নকু পালের বাড়ির বাসিন্দা মাস্টার আবুল কালাম আজাদ, লিটন হোসেন, শরীপ হোসেন, আবদুল কাদের ও পারুল বেগম অভিযোগ করে বলেন, কাজী শফিকুল ইসলাম অবৈধ আয়ের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে বাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের আমলে তিনি অন্যায়ভাবে কয়েকবার তাদের ৬টি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যান।
তারা আরও জানান, তাদের নকু পালের বাড়ির মোট আয়তন প্রায় ১২ একর, যার মধ্যে কাজী শফিকুল ইসলামের প্রাপ্য অংশ ২১ শতাংশ। কিন্তু তিনি অন্যায়ভাবে পুরো সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন। কেউ বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সর্বশেষ গত রবিবার বাড়ির উন্নয়নের স্বার্থে মসজিদ ও বাথরুম নির্মাণের জন্য আর্থিক ফান্ড গঠনের উদ্দেশ্যে বাড়ির সকল পরিবারের সম্মতিতে পুকুর থেকে মাছ ধরতে গেলে তিনি বাধা দেন। তার দাবি, পুকুরগুলোতে তার অংশীদারিত্ব রয়েছে। এছাড়া তিনি জানান, সকলের উদ্যোগে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে না, তিনি নিজেই মসজিদ নির্মাণ করবেন—এমন হুঁশিয়ারিও দেন বলে অভিযোগ।
এসময় প্রস্তাবিত মসজিদের জায়গাতেও তার অংশ রয়েছে দাবি করে বাধা সৃষ্টি করেন কাজী শফিকুল ইসলাম। তার এমন আচরণ ও বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, প্রয়োজনে এ বিষয়ে মানববন্ধনসহ আরও কর্মসূচি পালন করা হবে।
অভিযুক্ত কাজী শফিকুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। যা বলার আদালতে বলব। যা হওয়ার কাগজে-কলমে হবে।”