যাত্রাবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে বিএনপির সাথে ওসির মতবিনিময়

হাসান আলী:

গতকাল বুধবার রাত আটটার সময় যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জের রুমে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডসহ থানা নেতৃবৃন্দদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিগত নির্বাচনের ঢাকা ৫-এর ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির আহ্বায়ক জামশেদুল আলম শ্যামল, কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব মীর হাসান কামাল তাপস, যাত্রাবাড়ী সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল আহমেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক শিপন খান, এহতেসাম উদ্দিন নকিবসহ থানার সদস্যবৃন্দ এবং যাত্রাবাড়ী থানাধীন সাতটি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ বলেন, তাদের প্রত্যেকের ওয়ার্ডে মাদক, চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজিসহ যাত্রাবাড়ী থানার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নবীউল্লাহ নবী বলেন, আমাদের প্রত্যেককে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারেক রহমান দিনরাত বিরামহীন পরিশ্রম করে দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে রূপান্তর করার চেষ্টা করছেন। আমাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নৈতিক দায়িত্ব তাঁর পাশে থেকে তাঁর কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এবং দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো অপকর্মের কারণে দল যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। যারা অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন, আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মী যদি কোনো অপকর্মের সাথে জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যাত্রাবাড়ী থানার এক নেতা বলেন, যাত্রাবাড়ীতে যে আবাসিক হোটেলগুলো আছে সেখানে মাদক, জুয়া এবং দেহ ব্যবসা চলে, এতে সামাজিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি স্থানীয় ছেলেমেয়েরা সহজে মাদক এবং অবৈধ যৌনকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। চাঁদাবাজি, মাদক, ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দ। তারা তাদের ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো তুলে ধরেন ওসি মহোদয়ের সামনে এবং কিছু পরামর্শ দেন।

সবার বক্তৃতা শুনে যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ রাজু আহমেদ বলেন, তিনি আসার পর থেকে শক্ত হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে তারা যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। গত এক মাসে প্রায় ৯৬ জন ছিনতাইকারী ধরা হয়েছে, ১০০-এর কাছাকাছি মামলা হয়েছে, ৪১টি মাদকের মামলা হয়েছে। গত এক মাসে যে দুই-একটি হত্যা হয়েছে, প্রতিটি মামলার আসামিকে ধরা হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযান চলমান আছে। তিনি আরও বলেন, নেতৃবৃন্দ যদি তাদের এলাকা থেকে নির্দিষ্ট তথ্য দেন, তাহলে তারা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবেন—সে যত বড় সন্ত্রাসী বা মাদক কারবারিই হোক।

তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, তিনি এবং যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ কোনো অপরাধীর আশ্রয়স্থল যাত্রাবাড়ীতে হতে দেবেন না। তিনি বিশ্বাস করেন, নেতৃবৃন্দ যদি সহযোগিতা করেন, তাহলে যাত্রাবাড়ীতে কোনো চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি বা ছিনতাইকারী মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। যাত্রাবাড়ী থানা একটি বড় এলাকা হওয়ায় সব সময় সব জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পৌঁছাতে পারে না, লোকবলও সীমিত হতে পারে। তাই নেতৃবৃন্দকে নির্দ্বিধায় তথ্য দিতে অনুরোধ করেন তিনি, পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *