নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজার শহরের পুলিশ লাইনের পেছনে অবস্থিত তথাকথিত ‘সাংবাদিক পল্লী’ এলাকায় সরকারি খাস জমি ও পাহাড় কেটে জবরদখলের অভিযোগ আবারও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বে একটি প্রভাবশালী মহল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে পাহাড় কেটে সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন এবং অপরাধ নির্মূল কমিটির নজরে এলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং পরিবেশবাদী সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে গেলে হাই কোর্ট থেকে উক্ত এলাকায় সব ধরনের দখল, পাহাড় কাটা ও স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি আবারও একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট একই জায়গা দখলের জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সরকারি খাস জমি দখল করে ব্যক্তিগত মালিকানা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশল অবলম্বন করে আসছে। হাই কোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পুনরায় পাহাড় কাটা ও জায়গা দখলের চেষ্টা আইন অমান্যের শামিল এবং এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পাহাড় কাটার ফলে ভূমিধস, পরিবেশ বিপর্যয় এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহল মনে করেন, হাই কোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে যারা সরকারি জমি দখলের চেষ্টা করছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও পরিবেশবাদীরা।
এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানান, অবিলম্বে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আবারও পাহাড় কাটা ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ শুরু হতে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, সরকারি খাস জমি রক্ষা, পাহাড় কাটা বন্ধ এবং হাই কোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় একটি প্রভাবশালী দখলদার চক্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ জিম্মি হয়ে পড়বে।