সাঈদ হাসান সানি:
“মাদক”—একটি ছোট শব্দ হলেও এর প্রভাব ভয়াবহ ও বহুমাত্রিক। যে সকল দ্রব্য গ্রহণের ফলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার নেতিবাচক অবনতি ঘটে এবং ধীরে ধীরে এর উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়, সেগুলোকেই মাদকদ্রব্য বলা হয়। আর যারা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে, তারা পরিচিত হয় মাদকসেবী হিসেবে। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এই সর্বনাশা মাদকের কবলে পড়ে জীবন ও ভবিষ্যৎ হারানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাদকের থাবা শুধু তরুণদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তরুণীদের মধ্যেও এর বিস্তার ঘটছে উদ্বেগজনকভাবে। এর ফলে সমাজে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, নির্যাতন, পারিবারিক অশান্তি এমনকি খুনের মতো অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে মাদকদ্রব্য বিভিন্নভাবে সেবন করা হয়। যেমন—ধূমপানজাতীয় (তামাক, গাঁজা), তরলজাতীয় (ফেনসিডিল, মদ), ইনজেকশনজাতীয় (পেথিডিন, হেরোইন, কোকেন) এবং ট্যাবলেটজাতীয় (ইয়াবা ও ঘুমের ওষুধ)। এসব মাদক এখন সহজলভ্য হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।
মাদকাসক্তির পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পারিবারিক অশান্তি, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ, বেকারত্বজনিত হতাশা, খারাপ সঙ্গ, প্রেমে ব্যর্থতা, কৌতূহল ও সৌখিনতা। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের প্রলোভনও বড় ভূমিকা রাখছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা চললেও মাদকের বিস্তার থামানো যাচ্ছে না। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির অভাব এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় মাদক গ্রাম-গঞ্জ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায়ই মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, সমাজের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ছায়া থাকায় মাদক ব্যবসা টিকে আছে। আইনের ফাঁক-ফোকরের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থাও কমে যাচ্ছে। কিছু অসাধু ও অর্থলোভী মানুষের কারণে সমাজ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষিত সমাজ মনে করে, মাদক নির্মূলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সমাজের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের দৃঢ় ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। এতে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে এবং মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে।
পরিশেষে বলা যায়, মাদক সেবন ও ব্যবসা রোধে পারিবারিক, সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারের প্রণীত আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।