প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীরের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ তৌফিক এলাহী: স্বার্থ হাসিলেই সরকারি আদেশ অমান্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকা রেশনিংয়ের বদলি ও দায়িত্ব হস্তান্তরকে কেন্দ্র করে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রেশনিং কর্মকর্তা তৌফিক ই এলাহি—কে ৪ মার্চ বদলি করে দেবিদ্বারে পাঠানো হলেও তিনি নির্ধারিত ৭ কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেননি। প্রশাসনিক নীতিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে। জানা যায় প্রধান নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীরের সমস্ত অপকর্মের সহযোগী হিসেবে তৌফিক এলাহী খুবই পরিচিত। আর এর স্বার্থ হাসিল করতেই সরকারি আদেশ মানছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, ৪ মার্চ বদলি আদেশ জারির পর ৭ কর্মদিবস গণনা করে ১৬ মার্চ থেকে তাকে কার্যত কর্মবিমুক্ত হিসেবে বিবেচনা করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব হস্তান্তর করেননি। প্রায় এক মাস পর, ৫ এপ্রিল তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করেন বলে জানা যায়। এ ঘটনায় প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—দায়িত্ব হস্তান্তরের পর তাকে ঢাকা রেশনিংয়ের ডি—৩ এলাকার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, বদলির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও, উল্টো তাকে নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অনিয়ম ও বিধি বহির্ভূত বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ বিষয়ে একাধিক সূত্র বলছে, বদলি নীতিমালা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্যই প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়ার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে।

স্থানীয় ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গকে উৎসাহিত করতে পারে। একই সঙ্গে বদলি নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত হলে পুরো বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী বদলি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। নীতিমালা উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *