স্টাফ রিপোর্টার:
দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম বেপারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সুবিধাভোগীরা এখনো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসন পরিবর্তনের পরও তারা নিজেদের অবস্থান ধরে রেখে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্নভাবে সুবিধা আদায়ের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে সংস্থার অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুস সালাম বেপারীর দায়িত্বকালীন প্রায় চার মাস সময়ের মধ্যে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ সময় মোট ২,৫৯৪ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্প ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
এই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত বলে যাদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফকরুল ইসলাম, যিনি প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত মোঃ আতিকুর রহমান, যিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চঃদাঃ) এবং এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ আল-আমিন, মোঃ ইমরুল হাসান, মোঃ নুর এ নেয়ামত, মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোঃ নূর হোসেন, মোঃ মেহেদী হাসান, মোঃ হাফিজুর রহমান, মোঃ হাসিবুল হাসান, মোঃ ইরফান আলী, মোঃ সুলতান মাহমুদ, মোঃ রিয়া আনাদিন চৌধুরী, আহমেদ সাঈদ শেখ সাব্রি আল এবং মোঃ সালেকুর রহমানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নামও অভিযোগে উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এরা প্রত্যেকে বিভিন্ন প্রকল্প, বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সুবিধা নিয়েছেন।
এছাড়া ঢাকা ওয়াসার ঠিকাদার সিদ্দিক বেপারী, যিনি সালাম বেপারীর ভাই হিসেবে পরিচিত, তিনিও এসব কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) আব্দুস সালাম বেপারীর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, শুধু সাবেক এমডি-ই নন, বরং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দোসরদের কর্মকাণ্ডও সমানভাবে তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। তাদের মতে, এসব ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই না করলে দুর্নীতির পুরো চিত্র উন্মোচিত হবে না এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
ঢাকা ওয়াসার সচেতন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দাবি করেছেন, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সেবার মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।