মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে তাদের ঐতিহ্যবাহী বৈসাবি-বিঝু উৎসব। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আগত চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
১২ এপ্রিল রোববার ভোর ৬টা থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাশে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আনন্দ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। পরে নদীতে ফুল ভাসিয়ে সবার মঙ্গল কামনা করা হয়, যা ছিল উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ।
বৈসাবি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব। এটি মূলত চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই এবং ত্রিপুরাদের বৈসু—এই তিন উৎসবের সম্মিলিত রূপ। নতুন বছরকে বরণ এবং পুরোনো বছরকে বিদায় জানাতেই এ উৎসব উদযাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষরা জানান, জীবিকার তাগিদে তারা নারায়ণগঞ্জের কাচপুর ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পহেলা বৈশাখে সীমিত ছুটির কারণে নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে উৎসব উদযাপন করা সম্ভব হয় না। তাই এবার প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জেই ছোট পরিসরে হলেও বিঝু উৎসব পালন করতে পেরে তারা আনন্দিত।
আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা সুমিত বড়ুয়া বলেন, “নারায়ণগঞ্জে কর্মরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর যারা বাড়ি যেতে পারেন না, তাদের কথা বিবেচনা করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো এ উৎসব আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রশাসনসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছি। নতুন বছর সবার জন্য শুভ ও সুন্দর হোক।”