পূর্বাচল নর্থসাউথ গ্রীন সিটিতে প্লট ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও বিভ্রান্তির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পূর্বাচল নর্থসাউথ গ্রীন সিটি প্রকল্পে প্লট ক্রয়কে কেন্দ্র করে প্রতারণা, ভুল তথ্য প্রদান ও সময়মতো রসিদ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কিছু সেলসম্যান ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজন ক্রেতা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমাধান ও প্লট বরাদ্দ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী সামসুল হক, প্রভাষক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) ও বিভাগীয় প্রধান, আইসিটি বিভাগ, সরকারি মুড়াপাড়া কলেজ, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ। তিনি তার আবেদনে জানান, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে প্রকল্পটিকে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেনে প্লট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

তার দাবি অনুযায়ী, কোম্পানির সেলসম্যান সাকিব হোসেন প্রথমে তাকে প্রকল্পের A-ব্লক দেখান। পরে একই ব্যক্তি B-ব্লক দেখালেও পরবর্তীতে আবার সেটিকে A-ব্লক বলে উল্লেখ করেন, যা নিয়ে তার মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি যাচাই করতে তিনি আরও দুইজন ক্লায়েন্টকে নিয়ে গেলে তারা প্লট ও তথ্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেলসম্যানের দেওয়া তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পরবর্তীতে আরেক কর্মকর্তা মেহেদী হোসেন বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেন। এরপর তিনজন ক্লায়েন্ট মিলে পুনরায় B-ব্লকে প্লট ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সেলসম্যানের পক্ষ থেকে তাকে বলা হয় যে, দুই-তিনজন ক্লায়েন্ট নিয়ে এলে বিশেষ সুবিধা ও ভালো প্লট দেওয়া হবে। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে তার বড় ভাই নুরুজ্জামান দুটি প্লট বুকিং করেন (প্লট নম্বর ১০১ ও ১০৩)। একইসঙ্গে তিনি নিজে ৯৯ নম্বর প্লটের জন্য ৬০,০০০ টাকা প্রদান করেন, যার মধ্যে ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চেক জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে জানানো হয় চেকের পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদান করতে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি সেদিন ২৫,০০০ টাকা নগদ এবং ৩৫,০০০ টাকা আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকে নর্থসাউথ গ্রীন সিটি প্রকল্পের নির্দিষ্ট হিসাবে জমা দেন।

তবে অভিযোগকারী দাবি করেন, অর্থ পরিশোধের পরও একাধিক তারিখ দেওয়া হলেও তাকে যথাযথ মানি রিসিট প্রদান করা হয়নি এবং প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়নি। এতে তার মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরবর্তীতে তিনি সিনিয়র সেলসম্যান লোকমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে মানি রিসিট ও কিছু কাগজপত্র প্রকল্প অফিসে রাখা হয়, যা পরবর্তীতে সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে, যার ফলে বিষয়টি নিয়ে তিনি আরও সন্দিহান হয়ে পড়েন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সব কিছু সঠিক থাকলে এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে তিনি বাকি ডাউন পেমেন্ট পরিশোধ করতে আগ্রহী ছিলেন।

বর্তমানে তিনি ৯৯ নম্বর প্লটটি তার নামে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ ও হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেছেন, যাতে বিষয়টি তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয় এবং তাকে নির্ধারিত প্লটটি বুঝিয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *