মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় এখন একটাই উচ্চারণ— সোনাইমুড়ী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটির নাম হোক মরহুম সাবেক সংসদ সদস্য এ.কে.এম. আবু তাহেরের নামে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই দাবি আর কেবল আবেগে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী জনদাবিতে।
এলাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সর্বত্রই একই সুর। ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস, ছবি ও স্মৃতিচারণায় ভরে উঠেছে টাইমলাইন। শত শত মানুষ লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে জানাচ্ছেন তাঁদের অকুণ্ঠ সমর্থন। অনেকেই লিখছেন, এটি কেবল একটি নামকরণ নয়— এটি একজন নিবেদিতপ্রাণ জননেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ন্যূনতম প্রয়াস।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আবু তাহের ছিলেন রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ের মানুষ। সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, সাধারণ মানুষের সমস্যাকে নিজের সমস্যা মনে করা— এসব গুণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন বরুড়াবাসীর আস্থার প্রতীক। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় জুড়ে ছিল জনসেবার এক নিরবচ্ছিন্ন ধারা।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট আলেম ও সমাজসেবক মাওলানা আবু ইউসুফ নিজামী বলেন, “আবু তাহের সাহেব এই এলাকার মানুষের জন্য যা করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তিনি ছিলেন মানুষের ভরসার ঠিকানা। তাঁর নামে হাসপাতালটি নামকরণ করা হলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ তাঁর জন্য দোয়া করবে— এর চেয়ে বড় সম্মান আর হতে পারে না।”
তিনি আরও জানান, মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের নিজ অর্থায়নে জমি ক্রয় করে সরকারকে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছিলেন। তিনি বলেন, “এই হাসপাতালটি সোনাইমুড়ীতে না হওয়ার জন্য একসময় নানা ষড়যন্ত্র ছিল। কিন্তু আবু তাহের সাহেবের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও দৃঢ় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।”
একই সুরে কথা বলেন ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ডা. আবুল বাসার। তিনি বলেন, “সংসদ সদস্য হিসেবে আবু তাহের সাহেব স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে যে অবদান রেখেছেন, তা আজও দৃশ্যমান। তাঁর নামে হাসপাতালটির নামকরণ করা হলে সেটি হবে জনগণের পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি চিরস্থায়ী স্বীকৃতি।”
মরহুম এ.কে.এম. আবু তাহের বরুড়া তথা কুমিল্লার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ক্ষমতার চেয়ে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা এবং বিস্তৃত হয়েছে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি। মৃত্যুর পরও তিনি মানুষের স্মৃতিতে একজন অভিভাবক হিসেবে রয়ে গেছেন।
অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি বরুড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত রোগী এখানে সেবা নিতে আসেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই হাসপাতালের সঙ্গে আবু তাহেরের নাম যুক্ত হলে একদিকে যেমন তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তাঁর কর্মময় জীবন থেকে অনুপ্রেরণা পাবে।
বরুড়ার সর্বস্তরের মানুষ— আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ জনগণ— সরকারের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছেন: দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালটির নাম “এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যা হাসপাতাল, সোনাইমুড়ী, বরুড়া, কুমিল্লা” হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হোক।
স্থানীয় সুধীজনরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন ও জনমত গঠন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে— সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান পর্যন্ত। তাঁদের মতে, এটি কেবল একটি নামকরণ নয়; এটি বরুড়াবাসীর আবেগ, ইতিহাস ও ভালোবাসার প্রতিফলন।