স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)-এর বিরুদ্ধে হারানো মোবাইল সেট উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে না দিয়ে অন্যত্র বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম এসআই জিল্লুর রহমান। অভিযোগ ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাগত নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বিভিন্ন সময় হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকের কাছে ফেরত না দিয়ে গোপনে বিক্রি করে দেন এসআই জিল্লুর রহমান। এ কাজে তিনি একাধিক সোর্স ব্যবহার করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ‘সোহাগ’ নামের এক সোর্সের মাধ্যমে এসব মোবাইল বিক্রির কাজ পরিচালিত হতো। এর আগেও একই কৌশলে একাধিক সেট বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার একটি নির্দিষ্ট উদাহরণ গত ৭ তারিখে ঘটে। সেদিন যাত্রাবাড়ী এলাকায় একদল সাংবাদিক ক্রেতা সেজে অভিযুক্ত এসআই জিল্লুর রহমানের কাছ থেকে একটি আইফোন কেনার জন্য যোগাযোগ করেন। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই আইফোনটি বিক্রির প্রস্তাব দেন তিনি। পরে নির্ধারিত স্থানে লেনদেনের সময় সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
সাক্ষীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে এসআই জিল্লুর রহমান নিজের দোষ স্বীকার করে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। পরে ঘটনাটি নিয়ে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা তৈরি হলেও, উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকের মধ্যস্থতায় বিষয়টি সেখানেই মীমাংসা করা হয় বলে জানা যায়। অভিযোগ আছে, ওই সময় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে সালে, সোহেল, সবুজ, পাথর ও বাবলু নাম উল্লেখযোগ্য। তাদের সামনেই পুরো ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তের সঙ্গে থাকা সোর্স সোহাগও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের মতে, হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধার করার নামে অনেক সময় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধার করা মালামাল গোপনে বিক্রির ঘটনাও ঘটে। তবে সরাসরি একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এ অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল উদ্ধারকৃত মালামাল প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কিন্তু সেটি না করে ব্যক্তিগতভাবে বিক্রি করা হলে তা গুরুতর অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন নাগরিক সমাজ বলছে, পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বজায় রাখতে হলে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম কমে আসবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।