নারায়ণগঞ্জ দেওভোগের সাবেক শেখ রাসেল ও বর্তমান সিটি পার্কের ভেতরে পাঠাগার নির্মাণের দাবি

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার একসময়ের অবহেলিত জিমখানা এখন আধুনিক সিটি পার্কে রূপ নিয়েছে। যে স্থানটি একসময় ময়লা-আবর্জনা, জলাবদ্ধতা এবং মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এখন সবুজঘেরা পরিবেশ, লেক, হাঁটার পথ এবং দর্শনার্থীদের সরব উপস্থিতি। নগরবাসীর জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন। তবে এই দৃশ্যমান উন্নয়নের আড়ালে হারিয়ে গেছে এলাকার পুরনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিমখানাকে ঘিরে একসময় গড়ে উঠেছিল ন্যাশনাল ক্লাব, দেওভোগ সমাজ উন্নয়ন সংসদ এবং বাবুরাইল সংসদের মতো কয়েকটি সক্রিয় সামাজিক সংগঠন। বিকেল হলেই সেখানে বসত পত্রিকা পড়া, চায়ের আড্ডা, দেশ-বিদেশের খবর নিয়ে আলোচনা এবং নানা সামাজিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়। অন্যদিকে তরুণরা ক্যারম, দাবা, লুডু, ফুটবল ও ক্রিকেটের মতো খেলাধুলায় সময় কাটাত। এসব ক্লাব শুধু অবসর বিনোদনের কেন্দ্র ছিল না, বরং যুবসমাজকে সুস্থ, শৃঙ্খলিত ও সংগঠিত রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত।

কিন্তু সিটি পার্ক নির্মাণের পর সেই সংগঠিত সামাজিক পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ পার্কে এসে সময় কাটাচ্ছে টিকটক ও বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও তৈরিতে, যার কিছু কনটেন্টে অশালীনতা ও অপসংস্কৃতির ছাপও চোখে পড়ে। ফলে পার্কের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান-এর প্রতি আহ্বান জানান, সিটি পার্কের ভেতরে একটি পাঠাগার, সংবাদপত্র কর্নার কিংবা ছোট একটি কমিউনিটি স্পেস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক। তার বিশ্বাস, এতে প্রবীণরা ফিরে পাবেন পাঠচর্চা ও আড্ডার পরিবেশ, আর নতুন প্রজন্ম পাবে সুস্থ, সৃজনশীল ও সংস্কৃতিমুখী একটি বিকল্প পরিসর।

নারায়ণগঞ্জের এই সিটি পার্ককে শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চর্চারও কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। বিষয়টি নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এড. মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করছে নারায়ণগঞ্জবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *