মোঃআনজার শাহ
ঢাকার বুকে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণের অন্ধকার সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে এবার সত্যিকারের যুদ্ধ ঘোষণা করল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক। শুধু নোটিশ আর সতর্কবার্তায় নয়, এবার সরাসরি মাঠে নেমে আইনের শক্তি দেখাতে আজ মঙ্গলবার রাজধানীর দুটি ভিন্ন প্রান্তে জনবহুল মোহাম্মদপুর এবং অভিজাত গুলশান-১ এলাকায় একযোগে পরিচালিত হচ্ছে দুটি শক্তিশালী মোবাইল কোর্ট অভিযান।
বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযান প্রমাণ করছে যে রাজউক এখন আর কাগুজে বাঘ নয় ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘনকারী যে-ই হোক, আইনের শিকলে বাঁধা পড়তে হবে সবাইকে।
রাজউকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল) জনাব মো. জোবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত মিডিয়া বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে।
মোবাইল কোর্ট ১ — মোহাম্মদপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা
রাজউক জোন-৫/১ | সকাল ৮টা ৩০ মিনিট
ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রস্তুতি নিয়ে আজ সকাল সাড়ে আটটায় মোহাম্মদপুর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় রাজউকের জোন-৫/১-এর আওতায় মোবাইল কোর্ট অভিযান শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় অপরিকল্পিত ও অননুমোদিত নির্মাণের যে মহোৎসব চলে আসছিল, আজকের এই অভিযান তাতে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে।
অভিযানে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন,
বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: জনাব মো. সবুজ হাসান।
অথরাইজড অফিসার: জনাব সাঈদা ইসলাম।
সহকারী অথরাইজড অফিসার:জনাব আব্দুল্লাহ আল আজওয়াদ।
প্রধান ইমারত পরিদর্শক: জনাব মো. সাব্বির আহমেদ।
ইমারত পরিদর্শক:জনাব মো. মেহরাব হোসেন
মোবাইল কোর্ট ২ — গুলশান-১, ঢাকা
রাজউক জোন-৪/২ | মহাখালী জোনাল অফিস | সকাল ১০টা
অভিজাত এলাকা মানেই আইনের ঊর্ধ্বে এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণ করতে আজ সকাল ১০টায় গুলশান-১ এলাকায় রাজউকের জোন-৪/২-এর আওতায় মহাখালী জোনাল অফিসের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে আরেকটি শক্তিশালী মোবাইল কোর্ট। অর্থ-বিত্ত বা প্রভাব-প্রতিপত্তি যা-ই থাকুক, ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন করলে ছাড় নেই কাউকে — এই বার্তাই আজ স্পষ্ট করে দিচ্ছে রাজউক।
অভিযানে যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন,
বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: জনাব শাহনাজ পারভীন বীথি
অথরাইজড অফিসার: জনাব মো. হাসানুর রেজা।
সহকারী অথরাইজড অফিসার:জনাব এজাজ আহমেদ।
প্রধান ইমারত পরিদর্শক: জনাব মো. মিজানুর রহমান।
ইমারত পরিদর্শক: জনাব তোফায়েল আহমেদ।
রাজধানী ঢাকায় অপরিকল্পিত ও অবৈধ নির্মাণ এখন শুধু নগর পরিকল্পনার সমস্যা নয়, এটি পরিণত হয়েছে সরাসরি জনজীবনের জন্য হুমকিতে। অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে বহুতল ভবন নির্মাণ, নিয়মবহির্ভূতভাবে ভবন সম্প্রসারণ এবং আবাসিক এলাকায় অবৈধ বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলার মহোৎসব ঢাকার নগর কাঠামোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রানা প্লাজার মতো বিপর্যয়ের স্মৃতি এখনো তাজা তবু থামছে না আইন ভাঙার দুঃসাহস।
এই বাস্তবতায় রাজউকের আজকের দ্বিমুখী অভিযান নিছক একটি রুটিন কার্যক্রম নয়, এটি রাজধানীর ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় একটি দৃঢ় প্রশাসনিক বার্তা।
রাজউক সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীর প্রতিটি জোনে পর্যায়ক্রমে এই ধরনের মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে। শুধু নির্মাণাধীন ভবনই নয়, ইতোমধ্যে নির্মিত অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ধনী-গরিব, প্রভাবশালী-সাধারণ — সবার ক্ষেত্রে আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে রাজউক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ নির্মাণের কারণে যানজট, জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণে জর্জরিত রাজধানীবাসী রাজউকের এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন। নগরবাসীর একটাই প্রত্যাশা এই অভিযান যেন শুধু কাগজে-কলমে না থেকে মাঠপর্যায়ে পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং অবৈধ নির্মাণকারীরা যথাযথ আইনি শাস্তির মুখোমুখি হন।
রাজউক কর্তৃপক্ষ সকল নাগরিককে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। যেকোনো অভিযোগ বা তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।