বৈশাখের রুদ্ররোষে কাঁপল বরুড়া, অন্ধকারে ডুবল উপজেলা, মাটিতে মিশল কৃষকের স্বপ্ন

মোঃআনজার শাহ :-

বৈশাখ এসেছে তার চিরচেনা রুদ্ররূপ নিয়ে। রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় আছড়ে পড়া ভয়াল কালবৈশাখী মাত্র কয়েক মিনিটেই লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে গোটা জনপদ। ভেঙে পড়েছে গাছ, ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার, মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে কৃষকের সোনালি ফসল। প্রকৃতির এই তাণ্ডবে স্তব্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক জনজীবন।

যেভাবে নামল বিপদ:গতকাল রবিবার, ২৬ এপ্রিল। সন্ধ্যা তখন সবে সাড়ে ছটা। হঠাৎই আকাশ কালো করে ধেয়ে আসে ঝড়। প্রবল ঝড়ো হাওয়া আর মুষলধারে বৃষ্টিতে মুহূর্তের মধ্যে থরথর করে কেঁপে ওঠে বরুড়া উপজেলা। একের পর এক উপড়ে পড়তে থাকে বিশাল বিশাল গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি আর তারের ওপর আছড়ে পড়া সেই গাছের ভারে ছিঁড়ে যায় লাইন। নিমেষেই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যায় পুরো উপজেলা।

যেদিকে চোখ যায় শুধু ধ্বংসের ছবি:ঝড়ের সবচেয়ে ভয়াল ছোবল পড়েছে বরুড়া-লালমাই সড়কের আমড়াতলী বাজার সংলগ্ন এলাকায়। মাটিয়ারা, আমড়াতলী, গামারুয়া, জিনসার, বরুড়া পৌর ভবনের সামনে, ঝলম বাজার এবং আদ্রা ইউনিয়নের নলুয়া ও আড্ডা বাজার  সর্বত্র একই চিত্র। রাস্তার ওপর উপড়ে পড়া বিশাল গাছ আর ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে থমকে গেছে যানচলাচল। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন শত শত মানুষ। দোকানপাট আর বসতঘরেও লেগেছে ক্ষতির ছোবল।

মাঠেও কাঁদছেন কৃষক:শুধু রাস্তাঘাট আর বিদ্যুৎ নয়, ঝড়ের আঘাত সবচেয়ে নির্মম হয়েছে কৃষকের জন্য। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠে মাঠে পাকা ও কাঁচা ধান আর ভুট্টা ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সারা বছরের পরিশ্রম আর স্বপ্ন এক রাতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষকরা।

মাঠে নেমেছে প্রশাসন:ঝড়ের পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রশাসন। ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা যৌথভাবে বরুড়া-কুমিল্লা সড়কে গাছ অপসারণ ও বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের কাজ শুরু করেন। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত খুঁটি ও তার মেরামতে দল ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনও জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সমস্যা চিহ্নিত করে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

একটাই স্বস্তি,  প্রাণহানি নেই:এত ক্ষয়ক্ষতির মাঝেও একটি সুখবর  এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এটুকুই এই মুহূর্তে বরুড়াবাসীর সান্ত্বনা।

প্রকৃতির রুদ্ররোষে বিপর্যস্ত বরুড়া এখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *