স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানীর বংশাল এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জব্দ করা বিপুল পরিমাণ নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও লাইসেন্সবিহীন ঔষধ চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আল ইমরান।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর মিটফোর্ড রোড এলাকায় অবস্থিত মঞ্জুর মার্কেটের ৫ম তলার একটি গোডাউন এবং আরমানিটোলার আরমেনিয়ান চার্চ মার্কেট-২ এর ৪২ নম্বর দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধভাবে প্রস্তুতকৃত, মেয়াদোত্তীর্ণ, নকল, লেবেলবিহীন এবং লাইসেন্সবিহীন ঔষধ সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে গোপাল মল্লিক (৬২) নামের এক ব্যবসায়ীকে অভিযুক্ত করা হয়। তিনি কেরানীগঞ্জ উপজেলার বড়িশুর এলাকার বাসিন্দা। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী অপরাধ আমলে নেওয়ার পর একই আইনের ৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে অভিযোগ স্বীকার করেন। সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ নুরুল আমিন ও মোঃ আতিকুর রহমান।
জব্দ তালিকা অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত ঔষধ সামগ্রীর মধ্যে ছিল উচ্চমাত্রার নিয়ন্ত্রিত ওষুধ ক্লোনাজিপাম, সিউডোএফিড্রিন হাইড্রোক্লোরাইড, টাপেনটাডলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক যেমন এজিথ্রোমাইসিন, সেফিক্সিম, মেট্রোনিডাজল এবং অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান। এসব পণ্যের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৮ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
অভিযান শেষে জব্দকৃত মালামাল যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তালিকাভুক্ত করা হয় এবং সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিরাপত্তার স্বার্থে আরমেনিয়ান চার্চ মার্কেটের একটি দোকানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সিলগালা অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়। মালামালগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ী মোঃ শিহাব উদ্দিনের জিম্মায় রাখা হয়েছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, অভিযুক্ত গোপাল মল্লিকসহ তার সহযোগী রাকেশ মল্লিক ও সৌরোজিত মল্লিক এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধভাবে ওই দোকানের সিলগালা ভেঙে জব্দকৃত মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৮০ ধারা (চুরি) এবং ৪৫৭ ধারা (রাতের বেলায় গৃহভঙ্গ) অনুযায়ী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আল ইমরান বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জকে লিখিতভাবে নির্দেশ প্রদান করেন, যাতে দ্রুত নিয়মিত মামলা দায়ের, জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে ডিএমপি’র যুগ্ম কমিশনার (অপারেশন্স) এবং লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারকে অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জব্দ করা মালামাল সিলগালা অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তা চুরি হয়ে যাওয়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন তুলেছে। একইসঙ্গে এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়, যারা অবৈধ ঔষধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।