কুমিল্লার বরুড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতন: সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

 

কুমিল্লা প্রতিনিধি :-

 

কুমিল্লার বরুড়ায় চলমান দাখিল পরীক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গলা চেপে শ্বাসরোধের চেষ্টা, লোহার পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর এবং মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

গত ২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টায় বরুড়া পৌরসভার ০১ নং ওয়ার্ডের সাউদমারা এলাকায় জনৈক দেলোয়ার হোসেনের বাড়ির সামনে সাউদমারা থেকে তলাগ্রামগামী পাকা সড়কে ভিকটিম হাসান মাহমুদ শিহাব (১৭) ও তার সহপাঠী নোমান হোসেন (১৮) অবস্থান করছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত রেদোয়ান (২২), জাহিদ (১৯), সাজিদুল ইসলাম ওরফে সাজিদ (২২), মো. সজিব (২০) ও নাইম হোসেন (২১)-সহ অজ্ঞাতনামা সাত-আট জন সন্ত্রাসী সিএনজি ও মোটরসাইকেলযোগে ঘটনাস্থলে এসে পথরোধ করে।

এরপর দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শিহাব ও নোমানকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে নিয়ে বরুড়া চৌরাস্তা-সংলগ্ন গাউছিয়া মসজিদের পশ্চিম পাশের গাছপালার বাগানের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

নৃশংস নির্যাতন

নির্জন বাগানের ভেতরে নিয়ে সন্ত্রাসীরা হাসান মাহমুদ শিহাবকে এসএস পাইপ ও লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। শিহাবের দুই হাতের বাহুতে, দুই পায়ের উরুতে ও নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধা গুরুতর জখম সৃষ্টি হয়। প্রধান অভিযুক্ত রেদোয়ান শিহাবের গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সহপাঠী নোমান হোসেন শিহাবকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে ২ ও ৩ নং অভিযুক্ত ধারালো সুইচগিয়ার তার গলায় চেপে ধরে হত্যার হুমকি দেয় এবং তাকেও মারধর করে। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন চালানোর পর সন্ত্রাসীরা শিহাবের ব্যবহৃত একটি হুয়াওয়ে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং নোমানের একটি অপো মডেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সিএনজি ও মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।

 

পূর্ববিরোধ ও হুমকির ইতিহাস

অভিযোগকারী মো. গোলাম মোস্তফা (৫০) জানান, বিবাদীরা বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁর ছেলেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছিল। শিহাব এর প্রতিবাদ করলে সন্ত্রাসীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষতি করার হুমকি দিতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এই পরিকল্পিত অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে মাদক ব্যবসাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছে।

 

চিকিৎসা ও থানায় অভিযোগ

ঘটনার সংবাদ পেয়ে গোলাম মোস্তফা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ছেলেকে উদ্ধার করে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসার ব্যবস্থা শেষে তিনি বরুড়া থানায় ৫ জন নামীয় এবং অজ্ঞাতনামা প্রায় ১৮ জন আসামির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

 

পরিবারের দাবি

নির্যাতিত শিহাবের পরিবার অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে বরুড়া থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: মামলার পরবর্তী অগ্রগতি ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া মাত্র সংবাদটি আপডেট করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *