কুমিল্লা বিআরটিএর এডি ফারুক আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোঃ ফারুক আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যানবাহনের ফিটনেস সনদ, রেজিস্ট্রেশন, মালিকানা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দালালচক্রের প্রভাব ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক পরিবহন মালিক ও চালকের দাবি, বিআরটিএ কার্যালয়ে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। পরে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই দালালচক্রের সঙ্গে কার্যালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই চলছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ফিটনেস পরীক্ষায় অনেক সময় সড়কে চলাচলের অনুপযোগী গাড়িকেও অর্থের বিনিময়ে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। আবার নিয়ম মেনে আবেদন করলেও মাসের পর মাস ফাইল ঝুলিয়ে রাখা হয়। এতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয় কয়েকজন পরিবহন ব্যবসায়ী জানান, বিআরটিএ অফিসে দালাল ছাড়া সাধারণ মানুষের কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা না দিলে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন বাতিল বা বিলম্ব করা হয়। তারা অভিযোগ করেন, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নীরব সমর্থন রয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিঃ) মোঃ ফারুক আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “বিআরটিএতে এখন অনেক সেবা অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। এখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে এসেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়াচ্ছে।”

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, কুমিল্লা বিআরটিএ কার্যালয়ের কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। সেবার মান উন্নয়ন এবং দুর্নীতি বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *