চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদক বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকার পান্নাপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে জুয়া ও মাদক বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তি মোহাম্মদ ইসলাম ওরফে নুর ইসলামের বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর দাবি, তার নিজ বাড়ির ছাদকে কেন্দ্র করে রাতভর চলে জুয়ার আসর, মাদক সেবন ও বেচাকেনা। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের চেয়ে রাত বাড়লেই ওই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিভিন্ন বয়সী যুবক সেখানে জড়ো হয়ে জুয়ার আসর বসায় এবং মাদক সেবন করে। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দ, বিশৃঙ্খলা ও মারামারির ঘটনাও ঘটে। এতে করে এলাকার নারী, শিশু ও সাধারণ বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এলাকাবাসী জানান, বহুবার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়া ও নিয়মিত অর্থ লেনদেনের কারণেই অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারছে।

একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুয়া ও মাদকের ব্যবসা চালাচ্ছে। শুধু পুলিশ নয়, এলাকার কিছু কথিত নেতা, মাস্তান ও বিভিন্ন শ্রেণির প্রভাবশালীদেরও ম্যানেজ করে সে এই ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে। পুলিশ সব জানে, কিন্তু রহস্যজনক কারণে নীরব রয়েছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পান্নাপাড়া এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই বহিরাগতদের আনাগোনা শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে লোকজন ওই বাড়িতে যাতায়াত করে। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি চলে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের জুয়ার আসর।

অভিযোগ রয়েছে, এলাকার উঠতি বয়সী অনেক যুবক ইতোমধ্যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলো সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। সামাজিক অবক্ষয় বাড়ার পাশাপাশি এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও অপরাধ প্রবণতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারের পক্ষ থেকে যখন মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বলা হচ্ছে, তখন প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে এমন অবৈধ কর্মকাণ্ড বছরের পর বছর চলতে পারে? তারা মনে করেন, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের দায়হীনতা ও গাফিলতির কারণেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বারবার মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। তাদের মতে, পুলিশ যদি নিরপেক্ষ ও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করে, তাহলে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন টিকে থাকার সুযোগ নেই।

বিষয়টি নিয়ে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি বর্তমানে ছুটিতে আছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, ওসির অজ্ঞতার বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ এলাকাজুড়ে এই কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও অভিযোগ পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে অবগত করা হলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সচেতন মহল বলছে, শুধু আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অভিযান ও কঠোর পদক্ষেপ। তারা অবিলম্বে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়া ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সমাজকর্মীরা বলছেন, মাদক ও জুয়ার ভয়াবহতা শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। যুবসমাজকে রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও একযোগে কাজ করতে হবে।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং পান্নাপাড়াকে জুয়া ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *