ভয়াবহ আকারে ছড়াচ্ছে গরুর চর্মরোগ লাম্পি স্কিন, কুরবানির বাজারে ধসের শঙ্কা

চাঁদপুরসংবাদদাতা

কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর ভাইরাসজনিত চর্মরোগ ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি)।
দৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত দু‘মাসে অন্তত শতাধিক গরুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত এ রোগে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা কয়েক সহস্রাধিক। এর ফলে স্থানীয় খামারিরা মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস এর সাথে কথা বলে জানা যায়, এ রোগের প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) সরকারিভাবে গত ৬ মাসে তিনি বরাদ্দ পেয়েছেন ৭শ ভ্যাকসিন যা দিয়ে ৭শ গরুকে ভ্যাকসিন দেওয়া যাবে।
অথচ, এই উপজেলায় গবাদি পশুর সংখ্যা (ছোট-বড়) ৫৫ হাজারের উপরে। কাজেই, বেশিরভাগ গবাদি পশুই থাকছে ভ্যাকসিন এর বাইরে। ফলে এই রোগের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারী ও সাধারণ কৃষকদের সাথে যোগাযোগ করে শতাধিক গরু মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদের অফিসের দাবি মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ এর মতো।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার খাগকান্দা গ্রামের হোসনেয়ারা বেগমের কোরবানী ঈদে বিক্রির জন্য তৈরি করা গরুটি ১১ মে সোমবার এই লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য আড়াই লক্ষাধিক টাকা।
এর তিন দিন আগে ওটারচর গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা আতাউর রহমান সরকারের গাভীটিও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। সপ্তাহখানেক আগে ওটারচর গ্রামেরই অটোচালক কাশেম মিয়ার একটি গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯০ হাজার টাকা, ছেংগারচর পৌরসভার দুলালকান্দি গ্রামের সোহরাফের একটি গরু মারা যায় যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৮০ হাজার টাকাও বেশি, ইসলামবাদ ইউনিয়নের সুভ মিয়ার একটি গরু মারা যায় যার বাজার মূল্য দেড় লক্ষাধিক টাকা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এরকম আরো অনেক গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের খবর পাওয়া গেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ রোগে মৃত্যুহার অপেক্ষাকৃত কিছুটা কম হলেও ঝুঁকি বাড়ছে দুগ্ধ, চামড়া ও মাংস শিল্পে।
এ রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। আক্রান্ত গাভির দুধ উৎপাদন শূন্যের কোটায় নেমে আসে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন খামারিরা।
কোরবানির ঈদের আগে এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় খামারিদের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।
উপজেলার ওটারচর গ্রামের ক্ষুদ্র খামারি আতাউর রহমান বলেন, তার একটি গরু আক্রান্ত হলে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছেন। অনেক টাকা খরচ করে চিকিৎসা করেও ভালো হয়নি। শেষ পর্যন্ত গরুটি মারা যায়।
ডাক্তারদের জিজ্ঞেস করলে বলে, এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। যেটা আছে সেটা প্রয়োগ করা হয়েছে।
উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের খামারী গাজী কামাল হোসেন জানান, তার খামারে ছোট বড় মিলিয়ে ৩৩টি গরু রয়েছে। চারদিকে যেভাবে রোগ ছড়াচ্ছে তাতে প্রতিটি দিন আতঙ্কে কাটাচ্ছেন।
এ রোগে আক্রান্ত হলে তার ঈদকেন্দ্রিক ব্যবসায় মারাত্মক ধস নামার শঙ্কায় আছেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র দাস বলেন, গরুর লাম্পি স্কিন রোগের (এলএসডি) ভ্যাকসিন উপজেলায় চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। তবে সচেতনতার মাধ্যমেই এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *