অনলাইন ডেস্ক :
চোট থেকে সেরে উঠে সিলেট টেস্টের একাদশে ফিরেছিলেন মাহমুদুল হাসান জয়। তবে প্রত্যাবর্তনটা সুখকর হয়নি তার জন্য। মাত্র দুই বল টিকতে পেরেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান না করেই ফিরে যান তিনি।
শূন্য রানে আউট হওয়া জয়ের জন্য নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে এটি যেন তার ব্যাটিং ক্যারিয়ারের একটি নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে। ২২টি টেস্টে অংশ নিয়ে তিনি এ নিয়ে আটবার শূন্য রানে আউট হলেন। বাংলাদেশের ওপেনারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি শূন্য আছে কেবল তামিম ইকবালের, যিনি ৭০ টেস্টে ১১ বার শূন্য রানে ফিরেছেন। তবে ম্যাচ সংখ্যার তুলনায় জয়ের শূন্যে ফেরার হার অনেক বেশি।
জয়ের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে আউট হওয়ার ধরন। প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই অফ স্টাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হচ্ছে তাকে। নতুন বলের সুইং ও সিম সামলাতে তার দুর্বলতা বারবার প্রকাশ পাচ্ছে, আর ওপেনারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—বাইরের বল ছাড়ার সিদ্ধান্ত—সেখানেই ঘাটতি স্পষ্ট।
তবে শুরুতে তার প্রতি প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ে ৭৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে করেছিলেন ১৩৭ রান, সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন ৮৬ রানের ইনিংস, আর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭১ রান।
তবুও মাঝেমধ্যে বড় ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকতার অভাবই তার ক্যারিয়ারের প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিভার ঝলক দেখানোর পরও নিয়মিত ব্যর্থতা তাকে ক্রমেই চাপে ফেলছে। ফলে বাংলাদেশের টেস্ট ওপেনিং নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন মাহমুদুল হাসান জয়ের নামই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।