মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি ভবনে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আজ বুধবার জোন-৪/২-এর আওতাধীন দক্ষিণ আনন্দনগর, ভূইয়াবাড়ি এলাকায় পরিচালিত এই মোবাইল কোর্ট অভিযানে মোট ৬টি বৈদ্যুতিক মিটার জব্দ এবং এক লাখ টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়।
বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাহনাজ পারভিন বীথি এবং অথরাইজড অফিসার জনাব মোঃ হাসানুর রেজার যৌথ তত্ত্বাবধানে সহকারী অথরাইজড অফিসার, প্রধান ইমারত পরিদর্শক, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
যেসব ভবনে অভিযান চালানো হয়
১. সেবা ইসমাইল হাইটস
দক্ষিণ আনন্দনগর, ভূইয়াবাড়ি, বাড্ডার প্লট নং-১৬০-এ নির্মাণাধীন নয়তলা ভবনে রাজউক অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। অভিযানে ব্যত্যয়কৃত অংশ আংশিকভাবে ভেঙে অপসারণ করা হয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ডেসকো প্রতিনিধির কাছে মিটার ও সার্ভিস তার হস্তান্তর করা হয়।
২. মোঃ আয়নাল হক বেপারী গং
একই এলাকায় নির্মাণাধীন দশতলা ভবনে অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ করা হচ্ছিল। ব্যত্যয়কৃত অংশ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার ও সার্ভিস তার জব্দ করা হয়।
৩. মোঃ আল-আমিন হাওলাদার
দক্ষিণ আনন্দনগর, মসজিদ রোড, বাড্ডার ১৪৩৮ নম্বর প্লটে নির্মাণাধীন নয়তলা ভবনে একই ধরনের নকশা লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে ব্যত্যয়কৃত অংশ অপসারণ করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং মিটার জব্দ করা হয়।
৪. জনাব সায়েম কাজী
দক্ষিণ আনন্দনগর, মাদ্রাসা রোড, দক্ষিণ মহল্লা, বাড্ডার ১৪২০ নম্বর প্লটে নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনে নকশা লঙ্ঘনের দায়ে ব্যত্যয়কৃত অংশ ভেঙে ফেলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং **এক লাখ টাকা নগদ জরিমানা** আদায় করা হয়।
৫. মোঃ মনিরুল ইসলাম গং
দক্ষিণ আনন্দনগর, ভূইয়াবাড়ি, বাড্ডায় নির্মাণাধীন দশতলা ভবনেও অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় পাওয়া যায়। ব্যত্যয়কৃত অংশ অপসারণ করে মিটার ও সার্ভিস তার জব্দ করা হয়।
আবাসিক ভবনে অ-আবাসিক ব্যবহার বন্ধ
আফতাবনগর, বাড্ডার ব্লক-সি, প্লট নং-২০ ও ২২-এ এম এম ইউসুফ জামিলের আবাসিক ভবনে অ-আবাসিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে আগামী এক মাসের মধ্যে অ-আবাসিক কার্যক্রম স্থানান্তরের শর্তে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
রাজউক সূত্র জানায়, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণকাজ বন্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নগর পরিকল্পনার শৃঙ্খলা রক্ষায় অনিয়মকারী ভবন মালিক ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়।
তথ্যসূত্র: মোঃ জোবায়দুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ ও প্রটোকল), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা।