ঐক্য ও মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান: ইত্তেহাদুল ওলামা ফাঁসিয়াখালীর ঈদ পুনর্মিলনী সম্পন্ন

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম:

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে ইত্তেহাদুল ওলামা ফাঁসিয়াখালীর উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামারা দ্বীনের খেদমত, সামাজিক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলেম হযরত মাওলানা জয়নাল আবেদীন হোসাইনী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন হাফেজ মাওলানা মুহাদ্দেস মাসুম বিন জমির, মাওলানা নোমান সরোয়ার (সহ-সভাপতি, ইত্তেহাদুল ওলামা ফাঁসিয়াখালী), হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ (সেক্রেটারি), হাফেজ মাওলানা কাইছার হামিদ (সহ-সেক্রেটারি), মাওলানা মুফতি শাহ জালাল (সাংগঠনিক সম্পাদক) এবং মাওলানা আমিনুর রহমান (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)।

বক্তারা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে ইত্তেহাদুল ওলামা ফাঁসিয়াখালী ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে। সংগঠনটি এখনও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে না পারলেও দ্বীনি, সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারা বলেন, আলেম-ওলামাদের এই ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মকে আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং দ্বীনের প্রচার-প্রসারে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, দ্বীনের কাজকে এগিয়ে নিতে আলেম-ওলামাদের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য, ভালোবাসা ও সহযোগিতা অপরিহার্য। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মানবিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং ইসলামের সুমহান আদর্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি সমাজ থেকে অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, আলেম-ওলামাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমাজের অসহায়-দরিদ্র মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। বক্তারা উল্লেখ করেন, নবী-রাসূল (আ.) এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.) অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ছিলেন। তাঁদের জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র কল্যাণের পথে এগিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক, চকরিয়া উপজেলা ওলামা দল, স্থানীয় আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সঞ্চালনায় ছিলেন হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আনাস।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *