অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বিক্রি: ফতুল্লার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক গ্রেপ্তার

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার তল্লা এলাকার সুন্দরবন রেস্তোরাঁর মালিক জোবায়ের হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের করা মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের নির্দেশে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার এবং সদর উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. শাহজাহান হালদারের নেতৃত্বে একটি দল ফতুল্লার তল্লা হোসেন সরদার রোডের নতুন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন রেস্তোরাঁ পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনের সময় রেস্তোরাঁটিতে একাধিক গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। দেখা যায়, রান্নাঘরের সামনে ড্রেনের পাশে খোলা ডাস্টবিনের নিকট মুরগির মাংস রাখা হয়েছে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে, ডোবার পাশে এবং খোলা সিলিংয়ের নিচে কোনো ধরনের কীটপতঙ্গ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ছাড়াই রান্নার কাজ চলছিল। এছাড়া খাবার খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ, কাঁচা ও রান্না করা খাদ্য একত্রে রাখা, ময়লা কাপড় দিয়ে খাবার ঢেকে রাখা, নন-ফুডগ্রেড প্লাস্টিকের পাত্রে খাদ্য সংরক্ষণ এবং ময়লা পানিতে তৈজসপত্র পরিষ্কারের মতো নানা অনিয়ম ধরা পড়ে।

অভিযানকালে গুদামঘর থেকে ফুডগ্রেড নয় এমন কেওড়া জলও উদ্ধার করা হয়। পরিবেশনস্থলে খাবারের ওপর মাছির উপস্থিতি এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সালাদ প্রস্তুতের চিত্রও পরিদর্শক দল দেখতে পায়। এ সময় রেস্তোরাঁ থেকে বাসি গরুর মাংস, বাসি মুরগির মাংস ও কেওড়া জল জব্দ করা হয়।

পরে কোল্ড চেইন পদ্ধতি অনুসরণ করে মাংসের দুটি নমুনা পরীক্ষার জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে রান্না করা গরুর মাংসের নমুনায় টোটাল প্লেট কাউন্ট (TPC) পাওয়া যায় ২৮ লাখ ৪০ হাজার, যেখানে নিরাপদ খাদ্য (দূষণকারী জীবাণু নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ) প্রবিধানমালা, ২০২১ অনুযায়ী সর্বোচ্চ গ্রহণযোগ্য মাত্রা মাত্র ১০ হাজার।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৩, ৩০ ও ৩৩ ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে, যা ৫৮ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ ঘটনায় গত ২৩ মে ২০২৬ তারিখে নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার বাদী হয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নারায়ণগঞ্জে রেস্তোরাঁ মালিক জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগনামা দাখিল করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলাম আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জনস্বার্থে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত জোবায়ের হোসেন ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *