মোঃআনজার শাহ:-
বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটল অবশেষে,কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ীর মানুষ যে হাসপাতালের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন, সেই হাসপাতালের দেয়ালে আজ শোভা পাচ্ছে একটি নতুন নামফলক ‘এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’। সাইনবোর্ড উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়ের যাত্রা। তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে পুরোদমে অচিরেই খুলে যাবে সেবার দরজা।
সরকারি প্রজ্ঞাপনেই বদলে গেল ইতিহাস,গত ৮ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এই তারিখটি সোনাইমুড়ীর স্বাস্থ্যসেবার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ওই দিন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নির্মাণ শাখা থেকে জারি হয় একটি ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপন।
মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আরাফাত রহমান স্বাক্ষরিত সেই প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করা হয়, কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলার সোনাইমুড়ী ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
প্রজ্ঞাপন জারির পর দেরি হয়নি এক মুহূর্তও। দ্রুততার সঙ্গে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে স্থাপিত হয়েছে নতুন নামফলক। সেই সাইনবোর্ডে ‘এ.কে.এম. আবু তাহের’-এর নাম দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষ।
অপেক্ষার অবসান, আশার আলো,সোনাইমুড়ী ও তার আশপাশের গ্রামগুলোর লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ছুটতেন দূরের হাসপাতালে। সামান্য জ্বর থেকে শুরু করে প্রসূতি সেবা সবকিছুর জন্যই পাড়ি দিতে হতো মাইলের পর মাইল পথ। বয়স্ক রোগী, অন্তঃসত্ত্বা নারী কিংবা দরিদ্র কৃষক কারো জন্যই সেই যাত্রা ছিল না সহজ।
সেই দুর্ভোগের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। ২০ শয্যার এই হাসপাতাল পূর্ণোদ্যমে চালু হলে এলাকাবাসী নিজের দোরগোড়ায় পাবেন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা।
তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ চলছে, শিগগিরই খুলবে দরজা,
বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজেদুর রহমান জানান, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করা হবে।
তিনি বলেন, “এই হাসপাতাল চালু হলে সোনাইমুড়ীসহ বরুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষ সহজেই প্রাথমিক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাবেন। এটি এলাকার স্বাস্থ্যসেবার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দেবে।”
এলাকাবাসীর উচ্ছ্বাস,নামফলক উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় জমান স্থানীয় মানুষজন। অনেকেই সাইনবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন, একে অপরকে জানান শুভসংবাদ। বছরের পর বছর ধরে যে স্বপ্ন দেখেছেন তাঁরা, সেই স্বপ্ন সত্যি হতে দেখে তাঁদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দের ঝলক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই হাসপাতালটি কেবল একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, এটি তাঁদের কাছে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। ‘এ.কে.এম. আবু তাহের’-এর নামে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা এলাকার জন্য এক গর্বের বিষয়।
সামনের পথ,সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তত্ত্বাবধায়কসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ সম্পন্ন হলেই হাসপাতালটি পুরোপুরি চালু হবে। ইতোমধ্যে হাসপাতালের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন। এখন কেবল প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বরুড়া উপজেলার মতো জনবহুল এলাকায় এই হাসপাতাল চালু হলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রতিষ্ঠান।
সোনাইমুড়ীর আকাশে আজ নতুন সূর্য উঠেছে। একটি সাইনবোর্ড শুধু একটি নাম নয় এটি একটি প্রতিশ্রুতি, একটি স্বপ্নপূরণের সূচনা। ‘এ.কে.এম. আবু তাহের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল’-এর পথচলা শুরু হোক মানুষের সেবায়, মানুষের কল্যাণে।