স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর উত্তরায় “মিলেনিয়াম সিকিউরিটি সার্ভিস” নাম ব্যবহার করে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হৃদয় ও স্বপন নামের দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে বেকার যুবকদের টার্গেট করে প্রতারণার জাল বিস্তার করছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুক বিজ্ঞাপন, পোস্টার এবং রাস্তার মোড়ে লাগানো লিফলেটের মাধ্যমে “সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ” প্রচার চালানো হয়। সেখানে আকর্ষণীয় বেতন হিসেবে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা, থাকা-খাওয়া ফ্রি এবং দ্রুত নিয়োগের আশ্বাস দেওয়া হয়। এমন প্রলোভনে অনেক চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ উত্তরার কথিত অফিসে যোগাযোগ করেন।
অফিসে ডাকা হলে শুরু হয় প্রতারণার মূল প্রক্রিয়া। প্রার্থীদের কাছ থেকে “রেজিস্ট্রেশন ফি”, “মেডিকেল ফি”, “আইডি কার্ড”, এমনকি “ট্রেনিং ফি” নামেও ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। টাকা নেওয়ার পরপরই অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেউ কেউ কয়েক দিন অফিসে ঘুরেও কোনো নিয়োগপত্র বা জয়েনিং ডেট পাননি।
এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমাকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। তারা বলেছিল কয়েক দিনের মধ্যে জয়েন করাবে। কিন্তু পরে আর ফোন ধরেনি, অফিসে গেলে তালবাহানা করে।”
এভাবে একাধিক ভুক্তভোগী প্রতারিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই লজ্জা ও সামাজিক বিব্রতবোধের কারণে বিষয়টি প্রকাশ করেননি। তবে সম্প্রতি প্রতারণার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আরও ভুক্তভোগী সামনে আসতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির এক কর্মকর্তা জানান, বৈধ কোনো সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানি নিয়োগের আগে প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের অগ্রিম টাকা নেয় না। তিনি বলেন, “চাকরির নামে টাকা নেওয়া স্পষ্ট প্রতারণা। এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে ভুক্তভোগীদের দ্রুত জিডি বা মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
প্রতারক চক্রগুলো সাধারণত কয়েকটি কৌশল ব্যবহার করে থাকে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. আগাম টাকা দাবি: নিয়োগের আগেই বিভিন্ন ফি’র নামে টাকা নেওয়া, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
২. ভুয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া: কোনো বাস্তব ইন্টারভিউ বা যাচাই ছাড়াই চাকরি “কনফার্ম” দেখানো।
৩. ভাড়া করা অফিস: গলির ভেতর অস্থায়ী অফিস স্থাপন করে ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম চালানো।
৪. অতিরিক্ত বেতনের প্রলোভন: যোগ্যতা ছাড়াই উচ্চ বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বেকারত্ব পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে এ ধরনের প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক তরুণ দ্রুত চাকরির আশায় যাচাই-বাছাই না করেই অর্থ দিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, চাকরির ক্ষেত্রে সবসময় কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স, অফিসের বৈধতা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। কোনো অবস্থাতেই অগ্রিম টাকা দেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে ব্যাংক বা বিকাশে লেনদেন করলে রসিদ সংরক্ষণ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত নিকটস্থ থানায় জিডি করা বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে। সরকারি কর্মসংস্থান সংস্থা বা স্বীকৃত জব পোর্টালের মাধ্যমে চাকরির তথ্য যাচাই করারও পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো চাকরিপ্রত্যাশী এমন প্রতারণার শিকার না হন।