মোঃআনজার শাহ
বরুড়া বাজারের রাস্তা এখন আর শুধু যানবাহনের নয় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তার একটি বড় অংশ দখল করে রেখেছে অবৈধ দোকানপাট। এই দখলবাজিতে প্রতিদিন তীব্র যানজটে নাকাল হচ্ছেন হাজার হাজার পথচারী ও যাত্রী। অবশেষে এই অব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন বরুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাফিজ। সরাসরি মাঠে নেমে অভিযান পরিচালনা করলেন এবং দোকানদারদের উদ্দেশে দিলেন কড়া বার্তা।
রাস্তা হয়ে উঠেছিল বাজার,বরুড়া উপজেলার প্রধান বাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তার পাশ দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ দোকান। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এই দোকানগুলোর কারণে রাস্তায় সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। স্কুলগামী শিশু থেকে শুরু করে অফিসগামী মানুষ, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কেউই এই যানজটের কবল থেকে রেহাই পাচ্ছিলেন না। বারবার অভিযোগ উঠলেও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে টিকে থাকত এসব দোকান। মাঠে নামলেন এসি ল্যান্ড,এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন বরুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাফিজ। তিনি বরুড়া বাজার এলাকায় স্বশরীরে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তা দখলকারী দোকানদারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
অভিযান চলাকালে মো. আহসান হাফিজ দৃঢ়কণ্ঠে বলেন,”রাস্তার উপর কোনো ফুটপাত দোকান থাকতে পারবে না। এই অবৈধ দোকানগুলোর কারণেই রাস্তায় সর্বক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এটি আর সহ্য করা হবে না।”
দোকানদারদের উদ্দেশে তিনি আরও কঠোরভাবে বলেন,”কোনো তদবির চলবে না। যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অবিলম্বে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে দোকান উঠিয়ে নিন। অন্যথায় আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যানজটমুক্ত বরুড়ার স্বপ্ন,এসি ল্যান্ড আহসান হাফিজ জানান, এটি কোনো একদিনের অভিযান নয়। বরুড়া বাজারকে সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন,”বরুড়া বাজারের রাস্তা সকলের। এই রাস্তা কোনো ব্যক্তিবিশেষের সম্পত্তি নয়। ফুটপাত থাকবে পথচারীদের জন্য, রাস্তা থাকবে যানবাহনের জন্য। এই শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।”
স্থানীয়দের স্বস্তি, প্রশংসার ঢল,এসি ল্যান্ডের এই সাহসী পদক্ষেপে স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই যানজটের শিকার হওয়া মানুষজন বলছেন, এভাবে একজন কর্মকর্তা সরাসরি মাঠে এসে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবেই।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন এই যানজটে আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট হয়। এসি ল্যান্ড স্যার নিজে এসে ব্যবস্থা নিয়েছেন এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট,মো. আহসান হাফিজের এই পদক্ষেপ বরুড়া উপজেলায় প্রশাসনিক দৃঢ়তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তাঁর বার্তা সুস্পষ্ট, রাস্তা জনগণের, দখল কারও নয়। তদবির নয়, আইনই শেষ কথা।
বরুড়া বাজারের ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত হলে শুধু যানজটই কমবে না ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশও হবে সুশৃঙ্খল ও আধুনিক। এই উদ্যোগ বরুড়াকে একটি পরিচ্ছন্ন ও গতিশীল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।