টাঙ্গাইল জেলার ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’ এর ন্যাশনাল রিপোর্ট প্রকাশ সংক্রান্ত কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লাভলু :মঙ্গলবার ১৫ জুন ২০২৬, দুপুর২:৩০ ঘটিকায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয় কর্তৃক টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিবেদন (ন্যাশনাল রিপোর্ট) প্রকাশ সংক্রান্ত কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এ কর্মশালায় দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে।
উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীফা হক, জেলা প্রশাসক, টাঙ্গাইল, সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক,সাঈদ আহমেদ, উপপরিচালক, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, । এছাড়াও কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে উপপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তর প্রধানগণ।
পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জাতীয় প্রতিবেদন বিষয়ে সভাকে অবহিত করেন জনাব সাঈদ আহমেদ, উপপরিচালক, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, টাঙ্গাইল ।
‘সময়ের বিবর্তনে দেশের কৃষি বহির্ভূত অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রস্তুত’–এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক ২০২৪ সালে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) এবং জিআইএস (GIS) ম্যাপিং ব্যবহার করে দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি পারচালিত হয়। বাংলাদেশে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে। দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০০১ এবং ২০০৩ সালে (দুটি পর্যায়ে) এবং তৃতীয় অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চতুর্থ তথা সর্বশেষ অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, এ শুমারিতে মোট ৮৭,৪১৯টি গণনা এলাকা এলাকা (EA) গঠন করে প্রতিটি এলাকায় আনুমানিক ১৫০টি অর্থনৈতিক ইউনিট অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মাঠপর্যায়ে তথ্যসংগ্রহে ৮৭,৪১৯ জন গণনাকারী, ১৬,৯৩৪ জন সুপারভাইজার, ২,৫৭৭ জন জোনাল অফিসার, ২,৫৭৭ জন আইসিটি সুপারভাইজার এবং বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সমন্বয়কারীগণ অংশগ্রহণ করেন।
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,১৭,০২,৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮,১৮,৫৬৫টি। তাতে বোঝা যায়, দুইটি শুমারির মধ্যে (২০১৩ থেকে ২০২৪) অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪৯.৬৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, টাঙ্গাইল জেলায় বর্তমান অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৮০,৩৩০ টি, যার মধ্যে স্হায়ী ১,৩৯,৪৪২ টি, অস্হায়ী ১০,৩০৭ টি ও অর্থনৈতিক খানা রয়েছে ১,৩০,৫৮১ টি।
অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী নিয়োজিত মোট জনবল ৩,০৬,৩২,৬৬১ জন, যা ২০১৩ সালে ছিল ২,৪৫,০০,৮৫০ জন। এ হতে দেখা যায়, ২০১৩ সালের চেয়ে ২০২৪ সালে জনবল ২৫.০৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ অনুযায়ী মোট জনবলের ৮৩.২৮% পুরুষ (২,৫৫,১১,৬৫২ জন), মহিলা ১৬.৭১% (৫১,১৯,২৭১ জন) এবং হিজড়া ০.০১% (১,৭৩৮ জন)। টাঙ্গাইলে এই অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে ৬,৪২,৯২০ জন জনবল নিয়োজিত রয়েছেন, যার মধ্যে ৪,৬৭,৯৩৩ জন স্থায়ী, ১৩,০৮৫ জন অস্থায়ী ও ১,৬১,৯০২ জন অর্থনৈতিক খানার অন্তর্ভূক্ত। এসকল অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে ৫,৬২,০৯০ জন পুরুষ ও ৮০,৭৭৩ নারী কর্মী রয়েছে। অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর তথ্য ও উপাত্ত জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ অনুযায়ী দেখানো হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী টাঙ্গাইল জেলায় ১৬২ টি বৃহৎ শিল্প, ৭৫৯ টি মাঝারি শিল্প, ১১,৩১১ টি ক্ষুদ্র শিল্প, ১,৪৮,৬০২ টি মাইক্রো শিল্প, ও ১,১৯,৪৯৬ টি কুটির শিল্প রয়েছে।
এছাড়াও, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক শিল্প বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের একটি নির্ভুল তালিকা প্রণয়ন, নিয়মিত হালনাগাদকরণের মাধ্যমে শিল্প বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের, শিল্প বা ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের গতি-প্রকৃতি কিভাবে বা কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ে চলমান স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেজ রেজিস্টার জরিপের জন্য ব্যবসায়িক ফোরাম ও অংশীজনদের সহায়তা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *