মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
বগুড়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের জেরে দায়ের করা মামলায় ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি।
শনিবার (২০-০৬-২০২৬) নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম আরজু এবং সাধারণ সম্পাদক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী এস. এম. জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে রেজানুর ইসলামসহ এ ধরনের মামলায় আটক সকল সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি মনে করে, এ ঘটনা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার এবং রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক ৩১ দফা কর্মসূচিতে ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
সংবাদ প্রকাশে আপত্তি থাকলে প্রতিকারের বিদ্যমান কাঠামোর কথা উল্লেখ করে সংগঠনটি জানায়, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি—তিনি রাষ্ট্রের যে পদেই অধিষ্ঠিত থাকুন না কেন—আপত্তি থাকলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য দেশে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ জানাতে পারেন, যা এ ধরনের অভিযোগের বিচার ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিষ্ঠিত আইনসম্মত প্রতিষ্ঠান। একইভাবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি নিজেও মামলা করে প্রতিকার চাইতে পারেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার এবং কারাগারে পাঠানোর প্রবণতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। এ ধরনের ঘটনা সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীনতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশের বর্তমান ১৫২তম অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অবনতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি অবিলম্বে মো. রেজানুর ইসলামসহ গ্রেপ্তার হওয়া সকল সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের পরিবর্তে বিদ্যমান আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায়, বিশেষ করে প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে, প্রতিকার ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।