মোঃআনজার শাহ
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে দুই দিনব্যাপী প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হওয়ায় দেশজুড়ে এর গুরুত্ব নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ।
প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ যাত্রাকে ঘিরে সবচেয়ে আবেগময় ও আন্তরিক প্রতিক্রিয়া এসেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের পক্ষ থেকে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সফরের সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রী মনে করেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রবাসী কল্যাণ, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক সহযোগিতার এক নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের দৃষ্টিতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা ও সম্ভাবনার এক নতুন পরিসরে প্রবেশ করছে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন, এই রাষ্ট্রীয় সফর দেশের সার্বিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জনগণের কল্যাণে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে এই শুভকামনায়, যেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন—এই সফরের মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এই সফরকে বাংলাদেশের অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের সুযোগ সম্প্রসারণ, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিতকরণ, নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির কৌশল। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে যৌথ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হবে।
কূটনৈতিকভাবে সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো RCEP জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে মালয়েশিয়ার সমর্থন আদায়ের প্রচেষ্টা। সফরকালে সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর এবং সন্ত্রাসবাদ দমন সংক্রান্ত নোট বিনিময়ও হতে পারে।
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের ডালিয়ানে অনুষ্ঠিতব্য ১৭তম ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের “সামার ডাভোস” সম্মেলনে যোগ দেবেন, যা প্রধানমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক বৈশ্বিক সফরকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে সরকারি সফরে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। গত ২১ জুন ২০২৬, রবিবার দুপুর ২:৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, উপদেষ্টা, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তাবৃন্দ রয়েছেন।