কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম মোহরা-কাপ্তাই সড়কে প্রশাসনের সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ দখল ও অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন চলাচল। কয়েকদিন আগেও ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা ছিল ক্ষণস্থায়ী। বর্তমানে আবারও আগের চিত্র ফিরে এসেছে। ফুটপাত দখল, অবৈধ পার্কিং এবং নিয়ন্ত্রণহীন সিএনজি অটোরিকশা ও টিকটিকি টেম্পোর কারণে প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী এবং সাধারণ যাত্রীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই দখলদাররা আবারও ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যবসা শুরু করে। ফলে পথচারীদের বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে যান চলাচল আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, গ্রামাঞ্চল থেকে আসা অসংখ্য সিএনজি অটোরিকশা ও অনুমোদনহীন টিকটিকি টেম্পো প্রতিদিন মোহরা-কাপ্তাই সড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করছে। নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকলেও সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে এসব যানবাহন দীর্ঘ সময় অবস্থান করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে কয়েকশ’ মিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সড়কসংলগ্ন একটি বন্ধ গ্যাস পাম্পের ভেতরে গ্রামাঞ্চল থেকে আসা সিএনজি অটোরিকশা নিয়মিত পার্কিং করা হচ্ছে। সেখান থেকে প্রতিদিন চালকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ কারা আদায় করছে এবং এর সঙ্গে কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত কিনা, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের অভিযানগুলো অনেক সময় শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। অভিযান চলাকালে কিছু সময়ের জন্য দখলমুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেও এক-দুই দিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সবকিছু। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী, পথচারী ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে পারছে না। অফিসগামী চাকরিজীবীরাও নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য জরুরি সেবার যানবাহনও অনেক সময় যানজটে আটকে পড়ে।
সচেতন নাগরিকদের মতে, ফুটপাত দখল, অবৈধ পরিবহন এবং অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে। নিয়মিত নজরদারি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, লোক দেখানো বা একদিনের অভিযান নয়, বরং নিয়মিত মনিটরিং, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, অনুমোদনহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় মোহরা-কাপ্তাই সড়কের দীর্ঘদিনের যানজট, জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।