মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
সারাদেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জেও শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬। রবিবার (২৮ জুন) সকাল ১০টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. মো. মোস্তফা আলী, ডা. নাফিয়া, সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের বয়সভেদে নীল ও লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “ভিটামিন ‘এ’ শিশুর দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই আমি সকল অভিভাবকের প্রতি আহ্বান জানাই, আজকের মধ্যেই আপনার শিশুকে নিকটস্থ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পে নিয়ে এসে ক্যাপসুল খাওয়ান।”
তিনি আরও বলেন, “নারায়ণগঞ্জে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী কোনো শিশুই যেন এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। আপনার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান—আপনার শিশুর স্বাস্থ্য আমাদের অঙ্গীকার। একটি সুস্থ প্রজন্মই গড়ে তুলবে আগামীর সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ।”
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নূর কুতুবুল আলম জানান, এবারের জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রায় পাঁচ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল, প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে কোনো শিশু সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের ক্যাম্পে নিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।