আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
টানা দুই দিন পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর সংঘাত বন্ধ করে আবারও আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার (২৮ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে উল্লেখিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
অ্যাক্সিওসকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “উভয় পক্ষ বর্তমানে শান্ত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলও স্বাভাবিক আছে এবং সেখানে কোনো বাধা নেই।”
উল্লেখ্য, গত ২৫ জুন গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের নৌবাহিনীর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং রাডার স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকোম)।
এরপর প্রায় দুই দিন ধরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং সেন্টকোমের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। জবাবে আইআরজিসি কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
তবে মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কুয়েত ও বাহরাইনের সামরিক কর্তৃপক্ষও পৃথক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো ভূপাতিত করে।
কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভির মাধ্যমে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও হামলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় বলেন, “আমরা ইরানে অত্যন্ত সফল সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছি। আপাতত তা স্থগিত রয়েছে, তবে প্রয়োজন হলে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “যদি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান’ নামে কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্বই থাকবে না।”
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই বার্তার পর উভয় পক্ষ উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগে সম্মত হয় এবং আলোচনার পথেই সংকট সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স