আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
গত চার মাসে ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টি সাইবার হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টোরেটের পরিচালক ইয়োসি কারাদি।
জার্মান দৈনিক দাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ দাবি করেন। সোমবার (২৯ জুন) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়।
ইয়োসি কারাদি বলেন, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানি হ্যাকার গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ছোট ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের ব্যবহৃত ডিজিটাল সিস্টেমকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক সাইবার হামলা চালিয়েছে।
তার দাবি, এসব হামলার ফলে অনেক ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নষ্ট বা হারিয়ে গেছে। তবে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোর ওয়েবসাইটে চালানো হামলাগুলোর বেশিরভাগই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েলের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
কারাদি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর সময় প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকারে ইরানি হ্যাকাররা ইসরায়েলের সরকারি ওয়েবসাইট ও সাইবার অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। সে সময় ১২ দিনের সংঘাতে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সাইবার হামলা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ইয়োসি কারাদি বলেন, “এবার যেসব হ্যাকার গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে, তাদের কয়েকটি অত্যন্ত দক্ষ। আমরা এসব মোকাবিলার সক্ষমতা রাখি, তবে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। কারণ বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার স্পেসে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।”
তবে ইসরায়েলের এই দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে এসব সাইবার হামলার সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।