শনিআখড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে নকল ডিটারজেন্ট পাউডার তৈরির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর কদমতলী থানাধীন শনিআখড়া ও ২৪ ফুট এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে নকল ডিটারজেন্ট (হুইল) পাউডার উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসাকে ছোট আকারের কারখানায় রূপান্তর করে এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছে এবং পরে সেগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত ব্র্যান্ডগুলোর সুনাম।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা এ ধরনের অবৈধ কারখানায় অদক্ষ ও অপ্রশিক্ষিত শ্রমিক দিয়ে ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন কোনো বৈধ কারখানায় কাজ শেখার পর কিছু ব্যক্তি নিজেরাই অবৈধভাবে উৎপাদন শুরু করেন এবং বাজারে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে পণ্য বিক্রি করেন।

এমনই অভিযোগ উঠেছে কদমতলী থানার ২৪ ফুট এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ভাষ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সেখানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে নকল হুইল পাউডার তৈরি করছেন এবং পাইকারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে সালাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার না করে দাবি করেন, তাঁর কারখানায় বিভিন্ন সময় সাংবাদিকরা এসেছেন। এমনকি তিনি কয়েকজন সাংবাদিকের নামও উল্লেখ করেন। তবে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের সম্মানহানির আশঙ্কায় তাদের নাম প্রকাশ করা হলো না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের অবৈধ কারখানায় উৎপাদিত ডিটারজেন্টের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। ফলে সাধারণ ক্রেতারা নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়ক দেখে পণ্য কিনলেও প্রকৃতপক্ষে তারা নকল ও নিম্নমানের পণ্য পাচ্ছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকারও লঙ্ঘিত হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে গড়ে ওঠা এসব অবৈধ উৎপাদনকেন্দ্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরুরি নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে সরকারি তদন্ত বা আইনগত প্রক্রিয়ায় ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *