আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে ঘিরে সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়েছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ইরান ও ইরাকের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতা, কূটনীতিক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্ট অতিথিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথমে চলতি বছরের মার্চে খামেনির দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে তার বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ তিনি নিহত হন।
কে ছিলেন আলি খামেনি?
আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৩৯ সালে ইরানের পবিত্র শহর মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় তিনি রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
ইরাক-ইরান যুদ্ধ চলাকালে ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। পরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা (সুপ্রিম লিডার) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তার দীর্ঘ শাসনামলে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনী শক্তিশালী হয় এবং দেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ছেলে মোজতবা খামেনি।
সাত দিনের কর্মসূচি
৩ জুলাই: আনুষ্ঠানিকতার সূচনা
তেহরানে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দাফন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা ও রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তারা এদিন থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
৪ ও ৫ জুলাই: সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদন
এই দুই দিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় আলি খামেনির কফিন রাখা হবে। পরিবারের নিহত কয়েকজন সদস্যের মরদেহও সেখানে থাকবে। সাধারণ মানুষকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা ইরানের অন্যতম বৃহৎ প্রার্থনাস্থল এবং রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আয়োজনের কেন্দ্র।
৬ ও ৭ জুলাই: তেহরান থেকে কোমে শোভাযাত্রা
এই দুই দিনে রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের পবিত্র শহর কোম পর্যন্ত বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।
কোম শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র। এখানেই বহু বছর অধ্যয়ন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন আলি খামেনি।
৮ জুলাই: নজফ ও কারবালায় শ্রদ্ধা
৮ জুলাই মরদেহ ইরাকে নেওয়া হবে। প্রথমে নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর নজফে ইমাম আলী (রা.)-এর মাজার এবং কারবালায় ইমাম হুসাইন (রা.) ও হজরত আব্বাস (রা.)-এর মাজারে শোকযাত্রা ও বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই স্থানগুলো অত্যন্ত পবিত্র।
৯ জুলাই: মাশহাদে চূড়ান্ত দাফন
সাত দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৯ জুলাই মরদেহ ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজার (আ.) পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।
মাশহাদ শুধু ইরানের অন্যতম পবিত্র শহরই নয়, আলি খামেনির জন্মস্থানও। জীবনের একটি বড় সময় তিনি এই শহরে কাটিয়েছেন এবং এখানেই তার প্রাথমিক ধর্মীয় শিক্ষা শুরু হয়েছিল।
সাত দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে ইরান তার দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে শেষ বিদায় জানাবে।
সূত্র: আল জাজিরা