টেকসই ও পরিকল্পিত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে গৃহায়ণমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের

মো. আনজার শাহ:

দেশের অবকাঠামো ও আবাসন খাতে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে এসেছে একটি সুশৃঙ্খল, দুর্নীতিমুক্ত ও জনমুখী উন্নয়ন-দর্শনের রূপরেখা।

গতিশীল ও টেকসই অবকাঠামোর অঙ্গীকার

মন্ত্রী বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে আরও গতিশীল, পরিকল্পিত ও টেকসই করার লক্ষ্যে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলমান প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি বাস্তবায়িত প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে, যাতে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সুষম নগরায়ণের লক্ষ্য আরও সুসংহতভাবে অর্জিত হয়।

আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নে জোর

তিনি জানান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ, বাসযোগ্য ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল অঙ্গীকার। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্নীতি ও অপব্যয় রোধে কঠোর অবস্থান

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। সরকারি প্লট ও শুল্কমুক্ত গাড়ি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপব্যয় নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থবির হয়ে থাকা মেগা প্রকল্পগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আইনের শাসনের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত নগরায়ণ

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আইনের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। প্রতিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে আইন মেনেই। ভবিষ্যতে অবৈধ নির্মাণ ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় থেকে জাতীয় প্রত্যাশা

কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসন থেকে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধির মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তিকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ ৭৮ বছর পর নিজেদের এলাকা থেকে একজন মন্ত্রী পাওয়ায় বরুড়াবাসীর মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, গৃহায়ণমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিকল্পনা ও কঠোর দিকনির্দেশনার মাধ্যমে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও বেগবান হবে। পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক আবাসন ব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় যোগ করবে নতুন মাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *