নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণে চার ইউনিয়নের অংশ যুক্ত হচ্ছে

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সীমানা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সদর উপজেলার কুতুবপুর, ফতুল্লা, কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়নের নির্ধারিত এলাকাগুলো নাসিকের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত এই সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মতামত ও আপত্তি জানাতে আগামী ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা রায়হানা কবির স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) সীমানা পরিবর্তন (সম্প্রসারণ ও সংকোচন) বিধিমালা, ২০১৩-এর ধারা ৫ অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে নাসিকের সীমানা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বাসিন্দার মতামত, পরামর্শ কিংবা আপত্তি থাকলে তা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত আপত্তি ও মতামতের ওপর পরবর্তীতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং শুনানির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

প্রস্তাবিত সীমানা অনুযায়ী কুতুবপুর ইউনিয়নের ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া ফতুল্লা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সস্তাপুর ও আশপাশের এলাকা এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব ইসদাইর, চাঁদমারী ও সংলগ্ন এলাকাও নাসিকের সীমানাভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

একই সঙ্গে কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ অংশ এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমানা সম্প্রসারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণের পর বিধি অনুযায়ী শুনানি শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সীমানা সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সুপেয় পানি, স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবার পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে। তবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত হতে যাওয়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের কর, নাগরিক সুবিধা ও প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কেও পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *