স্পোর্টস ডেস্ক:
ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও নরওয়ে। ম্যাচটি যেমন দুই দলের লড়াই, তেমনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দুই তারকা স্ট্রাইকার—ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন এবং নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। গোল, পারফরম্যান্স ও পরিসংখ্যানের বিচারে কে এগিয়ে, তা নিয়েই চলছে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনা।
চলতি বিশ্বকাপে গোলের দৌড়ে আপাতত এগিয়ে আছেন হালান্ড। তিনি এখন পর্যন্ত ৭ গোল করেছেন, যা কেইনের চেয়ে একটি বেশি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নরওয়ে আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বিশ্রাম পেয়েছিলেন হালান্ড। ফলে এক ম্যাচ কম খেলেই তিনি এই গোলসংখ্যা স্পর্শ করেছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি ৯০ মিনিটে হালান্ডের গোল করার হার ১.৮, যেখানে কেইনের ১.২। এছাড়া হালান্ডের সাতটি গোলই এসেছে ওপেন প্লে থেকে, আর কেইনের দুটি গোল এসেছে পেনাল্টি থেকে। এক্সপেক্টেড গোল (xG)-এর দিক থেকেও এগিয়ে রয়েছেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।
তবে পুরো মৌসুমের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এগিয়ে রয়েছেন হ্যারি কেইন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও দেশের হয়ে তিনি করেছেন ৭৩ গোল, যা তার ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম। তার দুর্দান্ত নৈপুণ্যে বায়ার্ন মিউনিখ লিগ ও কাপ—দুটি শিরোপাই জিতেছে।
অন্যদিকে, হালান্ডও দারুণ ছন্দে ছিলেন। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৩ ম্যাচে করেছেন ৫৮ গোল। এর মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ৩৮টি এবং নরওয়ের জার্সিতে মাত্র ১১ ম্যাচে করেছেন ২০ গোল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলেও দুজনই নিজ নিজ দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। কেইন ১১৯ ম্যাচে ইংল্যান্ডের হয়ে করেছেন ৮৫ গোল। অন্যদিকে, হালান্ড মাত্র ৫৪ ম্যাচে নরওয়ের হয়ে ৬২ গোল করে ইতোমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেছেন।
তবে গোলের বাইরে দলের আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও কেইনের অবদান বেশি। চলতি মৌসুমে তিনি হালান্ডের তুলনায় বেশি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন, বেশি পাস দিয়েছেন এবং অ্যাসিস্টেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। যদিও ক্লাব ফুটবলে হালান্ডের অ্যাসিস্ট সংখ্যাও কম নয়।
সব মিলিয়ে, গোল করার দক্ষতায় বিশ্বকাপে আপাতত এগিয়ে হালান্ড। তবে অলরাউন্ড পারফরম্যান্স, সৃজনশীলতা এবং দলের আক্রমণে সামগ্রিক অবদানের বিচারে এখনও এগিয়ে রয়েছেন হ্যারি কেইন। ফলে ইংল্যান্ড-নরওয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে দুই তারকার দ্বৈরথই হতে যাচ্ছে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
সূত্র: আল জাজিরা।