লামায় বন্যাদুর্গত শত শত পরিবারের পাশে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা

মো. রাসেল:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা পৌরসভায় সৃষ্ট বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল ভাইস চেয়ারম্যান ও বান্দরবান জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আলহাজ আইয়ুব আলী কোম্পানি। দুর্যোগের দ্বিতীয় দিনেও রোববার (১২ জুলাই) পৌরসভার ১ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দী, অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে দিনব্যাপী খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেন তিনি।

জানা যায়, টানা বর্ষণের কারণে লামা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নিম্নাঞ্চলের অসংখ্য পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের ঘরে রান্নার উপকরণ ও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেন আলহাজ আইয়ুব আলী কোম্পানি।

ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, তেল, লবণ, মুড়ি, চিড়া ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে নগদ অর্থও প্রদান করা হয়। মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তিনি স্থানীয় একটি আলিয়া এতিমখানার এতিম শিশুদের জন্য পৃথকভাবে খাদ্যসামগ্রী পাঠান।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবীরা সহযোগিতা করেন। তারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে পানিবন্দী মানুষের হাতে সরাসরি খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ তুলে দেন।

ত্রাণ বিতরণকালে আলহাজ আইয়ুব আলী কোম্পানি বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে অসহায় ও পানিবন্দী মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমার সামর্থ্য সীমিত হতে পারে, তবে মানুষের কষ্ট লাঘবে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগেই দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ত্রাণ পেয়ে উপকারভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, আকস্মিক বন্যায় তারা চরম সংকটে পড়েছিলেন। অনেকের ঘরে খাদ্য মজুত ছিল না। এমন অবস্থায় চাল, ডাল, শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ পেয়ে তারা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তারা এ মানবিক সহায়তার জন্য আইয়ুব আলী কোম্পানির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, লামায় বন্যা পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় পরিসরে ধারাবাহিকভাবে ত্রাণ ও নগদ অর্থ বিতরণের ঘটনা খুবই বিরল। সংকটময় সময়ে তাঁর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। একই সঙ্গে তারা সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সামাজিক-সেবামূলক সংগঠনকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *