মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নয়নে সকল ধরনের অপরাধীর বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।
সভার শুরুতে জেলা প্রশাসক জেলার বিভিন্ন থানাভিত্তিক মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-দের নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভেজাল ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে এ ধারা বজায় রাখতে পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
সভায় নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আনসার সদস্যদের খোয়া যাওয়া অস্ত্র, মোবাইল ফোনের দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনায় জড়িত চক্র এবং বিভিন্ন থানা থেকে হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং যানজট ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিকে আরও সক্রিয় করা এবং সাইনবোর্ড, চাষাড়া এলাকাসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল-আমিন জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে প্রাচীর ও প্রবেশ গেট নির্মাণের দাবি জানান। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সিএনজি পরিবহনে চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং খাল খনন কার্যক্রমে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
সভায় সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মুহাম্মদ মুশিউর রহমান, ৬২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মির্জা মো. আরাফাত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাফী বিন কবিরসহ আনসার-ভিডিপি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৪, ফায়ার সার্ভিস, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কারাগার, মৎস্য অধিদপ্তর ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম, সমস্যা ও করণীয় বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন।
এছাড়া সভায় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জানানো হয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, যৌথ বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।