মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
মানুষের পাশে দাঁড়ানোই জনপ্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিনের মানবিক উদ্যোগে নতুন করে জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরায় অক্ষম জয়া আক্তার বিথী।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার চর কাশীপুর এলাকার বাসিন্দা জয়া আক্তার বিথী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। একটি হুইলচেয়ারের অভাবে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে চিকিৎসা গ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ—সবকিছুই তার জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবারের পক্ষ থেকেও একটি হুইলচেয়ার কেনা সম্ভব হচ্ছিল না।
এই অবস্থায় সম্প্রতি তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিনের কাছে একটি হুইলচেয়ারের আবেদন করেন। আবেদনটি হাতে পাওয়ার পরপরই ইউএনও বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সরকারি সহায়তার মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই বিথীর জন্য একটি হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সদর উপজেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন নিজ হাতে জয়া আক্তার বিথীর কাছে হুইলচেয়ার হস্তান্তর করেন। এ সময় সদর উপজেলা প্রকৌশলী ইয়াসির আরাফাত রুবেলসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হুইলচেয়ার হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা। জয়া আক্তার বিথীর মতো মানুষ যেন মর্যাদার সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সেজন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ও সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তার আবেদন পাওয়ার পর আমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। প্রকৃত উপকারভোগীরা আবেদন করলে যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলাফেরার সীমাবদ্ধতায় ভোগা জয়া আক্তার বিথী হুইলচেয়ার পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি এত দ্রুত আমার আবেদন গ্রহণ করা হবে। স্যার আমার কথা শুনেই ব্যবস্থা নিয়েছেন। এখন আমি অনেকটাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারব, নিজের প্রয়োজনীয় কাজ নিজেই করতে পারব এবং প্রয়োজন হলে বাইরে যেতে পারব। ইউএনও স্যার ও সরকারের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিথীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তার জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। একটি হুইলচেয়ার পাওয়ার ফলে এখন তার দৈনন্দিন জীবনযাপন অনেক সহজ হবে এবং তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আন্তরিকতা ও সহানুভূতি একজন অসহায় মানুষের জীবনে বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে। তারা ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তার প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।