স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁও থানাধীন বদ্দেরহাট এলাকায় অবস্থিত ‘সুইট প্যালেস’ নামের একটি আবাসিক হোটেলকে ঘিরে অসামাজিক কার্যকলাপ ও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাসিন্দা ও সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে হোটেলটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদ্দেরহাট মোড়ে ইউসিবি ব্যাংকের পাশের আহমেদ ভিলার তৃতীয় তলায় পরিচালিত এই আবাসিক হোটেলে প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক হোটেলের আড়ালে সেখানে অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি মাদক সেবন ও মাদক লেনদেনের ঘটনাও ঘটে থাকে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অনুসন্ধানে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দিনের বেলায় হোটেলটিতে সাধারণ কার্যক্রম দেখা গেলেও রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবেশ সম্পূর্ণ বদলে যায়। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে অপরিচিত ব্যক্তি ও নারীদের যাতায়াত বৃদ্ধি পায় এবং অনেকেই স্বল্প সময় অবস্থান করে দ্রুত চলে যান। এতে এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ব্যবসা করছি। আগে এলাকাটি অনেক শান্ত ছিল। কিন্তু কিছুদিন ধরে এই হোটেলকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর অচেনা লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের সন্তানদের নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় যদি এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা থাকে, তাহলে তা সামাজিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অসামাজিক কার্যকলাপই নয়, হোটেলটিকে ঘিরে মাদক সেবন ও লেনদেনের বিষয়েও দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, এলাকায় মাদক বিস্তারের ঝুঁকি বাড়লে তরুণ সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই বিষয়টি অবহেলা না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
অনুসন্ধানকালে হোটেলটির দায়িত্বে থাকা ‘হাবিব’ (ছদ্মনাম)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা যা করি, প্রকাশ্যেই করি।” তবে তিনি তার এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি। হোটেলটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্যও করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে অভিযোগ যখন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে, তখন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আর অভিযোগের সত্যতা না মিললে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো প্রয়োজন, যাতে বিভ্রান্তির অবসান ঘটে।
এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে হোটেলটিতে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা হোক। পাশাপাশি আবাসিক হোটেলগুলোর লাইসেন্স, অতিথি নিবন্ধন, সিসিটিভি ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনাগত বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তাও নিয়মিত তদারকি করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বদ্দেরহাটসহ চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে।